🕌 আসমাউল হুসনা ও আসমাউস সিফাতের পার্থক্য
কুরআন–হাদিস ও আহলুস সুন্নাহর আকিদার আলোকে
ভূমিকা
আল্লাহ তাআলাকে জানার ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা রয়েছে—
আসমাউল হুসনা (الأسماء الحسنى) এবং আসমাউস সিফাত (أسماء الصفات / صفات الله)।
অনেকেই এ দুটিকে এক মনে করেন, অথচ আকিদাগতভাবে এদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য জানা ঈমান শুদ্ধ রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
📖 আসমাউল হুসনা কী?
সংজ্ঞা
আসমাউল হুসনা বলতে বোঝায়—
👉 আল্লাহ তাআলার সেই সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ নামসমূহ,
যেগুলো দ্বারা আল্লাহকে নাম ধরে ডাকা হয় এবং
যেগুলো চূড়ান্ত সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতার অর্থ বহন করে।
কুরআনের দলিল
﴿وَلِلّٰهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنٰى فَادْعُوهُ بِهَا﴾
আল্লাহরই জন্য সুন্দর নামসমূহ; সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।
📚 সূরা আল-আ‘রাফ : ১৮০
উদাহরণ
- الرَّحْمٰنُ (পরম দয়ালু)
- الرَّحِيْمُ (অতি দয়ালু)
- الْمَلِكُ (সর্বময় অধিপতি)
- الْحَكِيمُ (প্রজ্ঞাময়)
➡️ আসমাউল হুসনা নির্দিষ্ট সংখ্যা: ৯৯ (ইহসার ফজিলত রয়েছে)
📖 আসমাউস সিফাত কী?
সংজ্ঞা
আসমাউস সিফাত বলতে বোঝায়—
👉 আল্লাহ তাআলার গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ,
যেগুলো তাঁর সত্তা, ক্ষমতা, ইলম, ইচ্ছা ও কার্যাবলির পরিচয় দেয়।
এগুলো সবসময় নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় না,
কিন্তু আল্লাহর গুণ ও কর্ম প্রকাশ করে।
কুরআনের দলিল
﴿وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
📚 সূরা আশ-শূরা : ১১
উদাহরণ
- سَمْع (শ্রবণ গুণ)
- بَصَر (দৃষ্টি গুণ)
- عِلْم (জ্ঞান)
- قُدْرَة (ক্ষমতা)
- إِرَادَة (ইচ্ছা)
➡️ আসমাউস সিফাতের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়
🧠 মূল পার্থক্য (তুলনামূলক টেবিল)
| বিষয় | আসমাউল হুসনা | আসমাউস সিফাত |
|---|---|---|
| অর্থ | আল্লাহর সুন্দর নাম | আল্লাহর গুণাবলি |
| ব্যবহার | নাম ধরে ডাকা হয় | গুণ হিসেবে বিশ্বাস করা হয় |
| সংখ্যা | ৯৯ (ইহসার ফজিলত) | নির্দিষ্ট নয় |
| দোয়ায় ব্যবহার | সরাসরি নাম ধরে | নামের মাধ্যমে গুণ চাওয়া হয় |
| উদাহরণ | الرَّحْمٰنُ | رَحْمَة (দয়া) |
| কুরআনি নির্দেশ | নাম দিয়ে ডাকো | গুণে বিশ্বাস করো |
🔍 সম্পর্ক ও সূক্ষ্ম পার্থক্য
🔹 প্রত্যেক আসমাউল হুসনা একটি সিফাত বহন করে
কিন্তু
🔹 প্রত্যেক সিফাত নাম হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়
উদাহরণ
- الرَّحْمٰنُ (নাম) → রহমত (সিফাত)
- الْعَلِيمُ (নাম) → ইলম (সিফাত)
⚠️ যেমন:
❌ “يَا رَحْمَةَ الله” বলা ঠিক নয়
✅ “يَا رَحْمٰنُ” বলা সহিহ
📖 রেফারেন্স: আল-কাওয়ায়েদুল মুথলা – ইবনু উসাইমীন (রহ.)
🛡️ আহলুস সুন্নাহর মূল আকিদা (সংক্ষেপে)
আল্লাহর সিফাত বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নীতি—
- তাশবিহ নয় (সৃষ্টির সাথে তুলনা নয়)
- তাকয়ীফ নয় (কিভাবে—তা নির্ধারণ নয়)
- তাহরিফ নয় (অর্থ বিকৃতি নয়)
- তা‘তীল নয় (অস্বীকার নয়)
📖 রেফারেন্স:
- ইমাম আহমদ (রহ.)
- ইবনু তাইমিয়া (রহ.) — আল-আকীদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ
📌 উপসংহার
আসমাউল হুসনা হলো আল্লাহর সুন্দর নাম,
আর আসমাউস সিফাত হলো সেই নামগুলোর মাধ্যমে প্রকাশিত আল্লাহর গুণাবলি।
দুটোই ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে এক নয়।
✨ নাম দিয়ে ডাকব, গুণে বিশ্বাস করব—এই হলো সঠিক আকিদা।
✅ আসমাউস সিফাতের পূর্ণ তালিকা (কুরআন–হাদিসসহ)
🕌 আসমাউস সিফাত (আল্লাহ তাআলার গুণাবলি)
কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে পূর্ণ তালিকা
ভূমিকা
আসমাউস সিফাত বলতে বোঝায় আল্লাহ তাআলার সেই চিরন্তন গুণাবলি,
যেগুলোর মাধ্যমে তাঁর সত্তা, ক্ষমতা, জ্ঞান, ইচ্ছা ও কার্যক্রম প্রকাশ পায়।
আসমাউস সিফাত বিশ্বাস করা ঈমানের অপরিহার্য অংশ।
📌 আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নীতি:
কুরআন ও সহিহ হাদিসে যা এসেছে—তা প্রমাণ করব, বিকৃতি করব না, অস্বীকার করব না, সৃষ্টির সাথে তুলনা করব না।
🧠 আসমাউস সিফাতের শ্রেণিবিভাগ
আলেমগণ সাধারণত সিফাতকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন:
1️⃣ সিফাতুয্ জাত (সত্তাগত গুণ)
2️⃣ সিফাতুয্ সাবুতিয়্যাহ (প্রমাণিত গুণ)
3️⃣ সিফাতুয্ ফি‘লিয়্যাহ (কর্মগত গুণ)
4️⃣ সিফাতুয্ খাবারিয়্যাহ (নসস দ্বারা প্রমাণিত গুণ)
নিচে প্রতিটি শ্রেণির পূর্ণ তালিকা দলিলসহ দেওয়া হলো।
① সিফাতুয্ জাত (صفات الذات)
আল্লাহর সত্তার সাথে চিরস্থায়ীভাবে বিদ্যমান গুণাবলি।
১. الوجود — অস্তিত্ব
📖 ﴿اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ﴾
সূরা আল-বাকারা: ২৫৫
২. القِدَم — চিরন্তন (শুরুবিহীন)
📖 ﴿هُوَ الْأَوَّلُ﴾
সূরা আল-হাদিদ: ৩
৩. البقاء — চিরস্থায়ী
📖 ﴿وَيَبْقَىٰ وَجْهُ رَبِّكَ﴾
সূরা আর-রহমান: ২৭
৪. المخالفة للحوادث — সৃষ্টির সাথে অমিল
📖 ﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ﴾
সূরা আশ-শূরা: ১১
৫. القيام بالنفس — কারো মুখাপেক্ষী নন
📖 ﴿اللَّهُ الصَّمَدُ﴾
সূরা আল-ইখলাস: ২
② সিফাতুয্ সাবুতিয়্যাহ (صفات الثبوتية)
কুরআন–হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত ইতিবাচক গুণাবলি।
৬. الحياة — জীবন
📖 ﴿اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ﴾
সূরা আল-বাকারা: ২৫৫
৭. العلم — জ্ঞান
📖 ﴿وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ﴾
সূরা আল-বাকারা: ২৮২
৮. القدرة — ক্ষমতা
📖 ﴿إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ﴾
সূরা আল-বাকারা: ২০
৯. الإرادة — ইচ্ছা
📖 ﴿يَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ﴾
সূরা ইব্রাহিম: ২৭
১০. السمع — শ্রবণ
📖 ﴿إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ﴾
সূরা আল-ইসরা: ১
১১. البصر — দৃষ্টি
📖 ﴿وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ﴾
সূরা আল-মুলক: ১৯
১২. الكلام — কথা বলা
📖 ﴿وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَىٰ تَكْلِيمًا﴾
সূরা আন-নিসা: ১৬৪
③ সিফাতুয্ ফি‘লিয়্যাহ (صفات الفعلية)
আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন কর্মগত গুণাবলি।
১৩. الخلق — সৃষ্টি করা
📖 ﴿اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ﴾
সূরা যুমার: ৬২
১৪. الرزق — রিযিক প্রদান
📖 ﴿إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ﴾
সূরা আদ্-ধারিয়াত: ৫৮
১৫. الإحياء — জীবন দান
📖 ﴿يُحْيِي وَيُمِيتُ﴾
সূরা আল-হাদিদ: ২
১৬. الإماتة — মৃত্যু দান
📖 একই আয়াত
১৭. المغفرة — ক্ষমা করা
📖 ﴿وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾
সূরা আল-বাকারা: ১৭৩
১৮. الرحمة — দয়া করা
📖 ﴿وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ﴾
সূরা আল-আ‘রাফ: ১৫৬
১৯. النزول — অবতরণ (যেভাবে তাঁর শানে মানানসই)
📜 হাদিস:
«يَنْزِلُ رَبُّنَا إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا…»
“আমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন…”
📚 সহিহ বুখারি: ১১৪৫
📚 সহিহ মুসলিম: ৭৫৮
④ সিফাতুয্ খাবারিয়্যাহ (صفات الخبرية)
নসস (কুরআন–হাদিস) দ্বারা প্রমাণিত সিফাত, যেগুলোর কিভাবে জানার চেষ্টা করা নিষেধ।
২০. الوجه — চেহারা
📖 ﴿وَيَبْقَىٰ وَجْهُ رَبِّكَ﴾
সূরা আর-রহমান: ২৭
২১. اليدان — দুই হাত
📖 ﴿بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ﴾
সূরা আল-মায়িদা: ৬৪
২২. العين — চক্ষু
📖 ﴿وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا﴾
সূরা হুদ: ৩৭
২৩. الاستواء على العرش — আরশে সমুন্নত হওয়া
📖 ﴿الرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى﴾
সূরা ত্ব-হা: ৫
🛡️ আহলুস সুন্নাহর নীতিমালা (সংক্ষেপ)
✔ প্রমাণ করব (إثبات)
❌ বিকৃতি নয় (تحريف)
❌ তুলনা নয় (تشبيه)
❌ কিভাবে নির্ধারণ নয় (تكييف)
❌ অস্বীকার নয় (تعطيل)
📖 রেফারেন্স:
- আল-আকীদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ — ইবনু তাইমিয়া (রহ.)
- আল-কাওয়ায়েদুল মুথলা — ইবনু উসাইমীন (রহ.)
📌 উপসংহার
আসমাউস সিফাত আল্লাহ তাআলার পরিচয়ের ভিত্তি।
যেমন তিনি নিজেকে কুরআন ও হাদিসে বর্ণনা করেছেন—ঠিক সেভাবেই বিশ্বাস করাই হলো সহিহ আকিদা।
✨ আল্লাহকে চিনব তাঁর সিফাতে, ডাকব তাঁর নামে।
✅ আসমাউস সিফাত বনাম বাতিল আকিদা (মু‘তাজিলা/জাহমিয়া)
🕌 আসমাউস সিফাত বনাম বাতিল আকিদা
(মু‘তাজিলা ও জাহমিয়া)
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ
ভূমিকা
আল্লাহ তাআলার আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি) বিষয়ে আকিদা হলো তাওহিদের অন্যতম স্তম্ভ।
ইসলামের ইতিহাসে কিছু দল যুক্তিবাদ ও দর্শনকে নসসের উপর প্রাধান্য দিতে গিয়ে ভয়াবহ বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো মু‘তাজিলা ও জাহমিয়া।
এই লেখায় আমরা দেখব—
- আহলুস সুন্নাহ কী বলে
- মু‘তাজিলা ও জাহমিয়া কী বলে
- কেন তাদের আকিদা বাতিল
- কুরআন–হাদিসের আলোকে তার জবাব
🧠 আহলুস সুন্নাহর মূলনীতি (সংক্ষেপ)
نُثْبِتُ مَا أَثْبَتَهُ اللَّهُ لِنَفْسِهِ وَمَا أَثْبَتَهُ لَهُ رَسُولُهُ ﷺ
مِنْ غَيْرِ تَشْبِيهٍ وَلَا تَكْيِيفٍ وَلَا تَحْرِيفٍ وَلَا تَعْطِيلٍ
অর্থ:
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যা প্রমাণ করেছেন—
আমরা তা প্রমাণ করি,
তুলনা ছাড়া, কিভাবে নির্ধারণ ছাড়া, বিকৃতি ছাড়া ও অস্বীকার ছাড়া।
📖 আল-আকীদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ — ইবনু তাইমিয়া (রহ.)
১️⃣ জাহমিয়া: সংক্ষিপ্ত পরিচয়
প্রতিষ্ঠাতা
👉 জাহম ইবনু সাফওয়ান (মৃ. ১২৮ হি.)
মূল ভ্রান্তি
❌ আল্লাহর সব সিফাত অস্বীকার
❌ আল্লাহকে গুণহীন সত্তা বানানো
❌ কুরআনের বহু আয়াত কার্যত বাতিল করা
❌ জাহমিয়াদের আকিদা ও তার জবাব
❌ আকিদা ১: আল্লাহর কোনো সিফাত নেই
তাদের দাবি—
“আল্লাহ শুধু সত্তা, তাঁর কোনো গুণ নেই।”
কেন বাতিল?
কারণ কুরআন ভরপুর সিফাতে।
📖 ﴿وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
সূরা আশ-শূরা: ১১
✔ জবাব:
যদি সিফাত না থাকে, তবে “শ্রবণ” ও “দৃষ্টি” অর্থহীন হয়ে যায়।
📖 ইমাম আহমদ (রহ.):
যে আল্লাহর সিফাত অস্বীকার করে, সে আল্লাহকে অস্বীকার করল।
(রদ্দু আলাল জাহমিয়া)
❌ আকিদা ২: আল্লাহ কথা বলেন না
তাদের দাবি—
“কালামুল্লাহ সৃষ্টি।”
📖 জবাব:
﴿وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَىٰ تَكْلِيمًا﴾
আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।
সূরা আন-নিসা: ১৬৪
✔ স্পষ্ট আয়াতকে অস্বীকার = কুফরের দরজা খুলে দেওয়া।
২️⃣ মু‘তাজিলা: সংক্ষিপ্ত পরিচয়
প্রতিষ্ঠাতা
👉 ওয়াসিল ইবনু ‘আতা (মৃ. ১৩১ হি.)
স্লোগান
“العقل قبل النقل”
যুক্তি নসসের আগে
❌ মু‘তাজিলাদের আকিদা ও তার জবাব
❌ আকিদা ১: সিফাত মানলে শিরক হবে
তাদের দাবি—
“আল্লাহর সত্তা ছাড়া আলাদা সিফাত মানলে বহু সত্তা হয়ে যাবে।”
কেন বাতিল?
কারণ এটি গ্রিক দর্শনের প্রভাব, কুরআনের নয়।
📖 ﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ﴾
তাঁর মতো কিছুই নেই।
সূরা আশ-শূরা: ১১
✔ সিফাত মানা ≠ সৃষ্টির সাথে তুলনা।
❌ আকিদা ২: সিফাতের রূপক ব্যাখ্যা (তাহরিফ)
| কুরআনি শব্দ | মু‘তাজিলাদের ব্যাখ্যা |
|---|---|
| يد (হাত) | ক্ষমতা |
| وجه (চেহারা) | সত্তা |
| استوى | কর্তৃত্ব |
📖 জবাব:
﴿بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ﴾
বরং তাঁর দুই হাত প্রসারিত।
সূরা আল-মায়িদা: ৬৪
✔ আল্লাহ নিজেই “দুই হাত” বলেছেন—ক্ষমতা বলেননি।
📖 ইবনু উসাইমীন (রহ.):
তাহরিফ হলো নসসের উপর জুলুম।
❌ আকিদা ৩: আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন না
📜 সহিহ হাদিস:
«يَنْزِلُ رَبُّنَا إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا…»
সহিহ বুখারি: ১১৪৫
❌ মু‘তাজিলা: “এটা অসম্ভব”
✔ জবাব:
অসম্ভব নয়—
অসম্ভব মনে হওয়াটাই মানুষের সীমিত জ্ঞান।
📖 ﴿وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا﴾
তারা তাঁকে জ্ঞানে পরিবেষ্টন করতে পারে না।
সূরা ত্ব-হা: ১১০
🆚 তুলনামূলক টেবিল
| বিষয় | আহলুস সুন্নাহ | মু‘তাজিলা | জাহমিয়া |
|---|---|---|---|
| সিফাত | প্রমাণ করে | রূপক ব্যাখ্যা | অস্বীকার |
| কুরআন | আল্লাহর কালাম | সৃষ্ট | সৃষ্ট |
| যুক্তি | নসসের অধীন | নসসের উপর | নসস বাতিল |
| পথ | সালাফ | দর্শন | চরম বিভ্রান্তি |
🛡️ সালাফে সালেহীনের বক্তব্য
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)
আল্লাহর সিফাত অস্বীকার করা কুফর।
📖 আল-ফিকহুল আকবর
ইমাম মালিক (রহ.)
ইস্তিওয়া জানা, কিভাবে অজানা, বিশ্বাস করা ওয়াজিব।
📌 উপসংহার
মু‘তাজিলা ও জাহমিয়া—
- যুক্তিকে অহি’র উপরে বসিয়েছে
- আল্লাহর সিফাত বিকৃত বা অস্বীকার করেছে
- ফলে তারা ভ্রান্ত আকিদায় পতিত হয়েছে
অন্যদিকে
✔ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত
আল্লাহকে যেমন তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন—
ঠিক তেমনই বিশ্বাস করে।
✨ নাজাত কেবল সালাফের পথে।
🔖 SEO ট্যাগ (প্রস্তাবিত)
আসমাউস সিফাত, মু‘তাজিলা, জাহমিয়া, বাতিল আকিদা, Ahle Sunnah Aqeedah, Islamic Theology Bangla
✅ আশ‘আরী বনাম সালাফি আকিদার নিরপেক্ষ তুলনা
🕌 আশ‘আরী বনাম সালাফি আকিদা
নিরপেক্ষ তুলনা (Aqidah Comparison)
ভূমিকা
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ভেতরে ইতিহাসে দুটি পরিচিত আকিদাগত ধারা দেখা যায়—
1️⃣ সালাফি / আথারি আকিদা
2️⃣ আশ‘আরী আকিদা
দুটো ধারাই নিজেদের আহলুস সুন্নাহ বলে দাবি করে,
কিন্তু বিশেষ করে আসমা ও সিফাত বিষয়ে তাদের পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে।
এই লেখায় আমরা—
- কাউকে কাফির/ভ্রান্ত ঘোষণা না করে
- কুরআন–হাদিস ও সালাফের বক্তব্য সামনে রেখে
নিরপেক্ষ তুলনা করব।
১️⃣ সালাফি (আথারি) আকিদা: সংক্ষিপ্ত পরিচয়
পরিচয়
- অনুসরণ করে: সালাফে সালেহীন (সাহাবা–তাবেঈ–তাবে তাবেঈন)
- প্রধান আলেম:
- ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল
- ইমাম বুখারি
- ইবনু তাইমিয়া
- ইবনু কাইয়্যিম
মূল নীতি
النص مقدم على العقل
নসস (কুরআন–হাদিস) যুক্তির উপর প্রাধান্য পাবে
২️⃣ আশ‘আরী আকিদা: সংক্ষিপ্ত পরিচয়
পরিচয়
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবুল হাসান আল-আশ‘আরী (রহ.)
- উদ্দেশ্য:
- মু‘তাজিলাদের ভ্রান্ত যুক্তিবাদের জবাব দেওয়া
- অনুসারী আলেমদের মধ্যে আছেন:
- ইমাম নববি
- ইমাম বায়হাকি
- ইমাম গাজ্জালি
⚠️ নোট: ইমাম আশ‘আরী নিজ জীবনের শেষ দিকে সালাফি আকিদার দিকে ফিরে যান—এ বিষয়ে ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে।
৩️⃣ মূল পার্থক্যের ক্ষেত্র: আসমা ও সিফাত
🔹 সালাফি দৃষ্টিভঙ্গি
- কুরআন–হাদিসে যা এসেছে যেমন এসেছে তেমনই বিশ্বাস
- না তুলনা, না কিভাবে প্রশ্ন, না রূপক ব্যাখ্যা
إثبات بلا تشبيه، وتنزيه بلا تعطيل
🔹 আশ‘আরী দৃষ্টিভঙ্গি
- কিছু সিফাত সরাসরি প্রমাণ
- কিছু সিফাতে তাফওয়ীদ (অর্থ আল্লাহর কাছে সোপর্দ)
- প্রয়োজনে তাওয়ীল (রূপক ব্যাখ্যা)
৪️⃣ তুলনামূলক টেবিল (মূল অংশ)
| বিষয় | সালাফি (আথারি) | আশ‘আরী |
|---|---|---|
| মূল উৎস | কুরআন–হাদিস–সালাফ | কুরআন–হাদিস + কালাম |
| যুক্তির ভূমিকা | নসসের অধীন | নসস রক্ষার উপকরণ |
| সিফাত | সব প্রমাণ | ৭/১৩ সিফাত মূল |
| তাওয়ীল | প্রত্যাখ্যান | সীমিতভাবে গ্রহণ |
| তাশবিহ | সম্পূর্ণ বর্জন | সম্পূর্ণ বর্জন |
| তা‘তীল | সম্পূর্ণ বর্জন | তাত্ত্বিকভাবে বর্জন |
৫️⃣ উদাহরণসহ তুলনা (খুব গুরুত্বপূর্ণ)
🔸 আল্লাহর “হাত” (يد)
📖 কুরআন:
﴿بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ﴾
সূরা আল-মায়িদা: ৬৪
সালাফি ব্যাখ্যা:
✔ আল্লাহর হাত আছে
✔ মানুষের মতো নয়
✔ কিভাবে—অজানা
আশ‘আরী ব্যাখ্যা:
- কেউ বলেন:
✔ তাফওয়ীদ (অর্থ আল্লাহ জানেন) - কেউ বলেন:
✔ তাওয়ীল → “ক্ষমতা”
🔸 আল্লাহর ইস্তিওয়া (استواء)
📖 ﴿الرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى﴾
সূরা ত্ব-হা: ৫
সালাফি:
✔ ইস্তিওয়া প্রমাণ
✔ কিভাবে নয়
আশ‘আরী:
✔ ইস্তিওয়া মানেন
✔ কেউ বলেন: কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
৬️⃣ আশ‘আরীরা কি আহলুস সুন্নাহ?
⚖️ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন
✔ আশ‘আরীরা মু‘তাজিলা বা জাহমিয়ার মতো নয়
✔ তারা আল্লাহর অস্তিত্ব ও মূল সিফাত মানে
❌ তবে সালাফের পদ্ধতি থেকে কিছু ক্ষেত্রে বিচ্যুতি হয়েছে
📖 ইবনু তাইমিয়া (রহ.):
আশ‘আরীরা আহলুস সুন্নাহর নিকটবর্তী, কিন্তু পূর্ণ অনুসারী নয়।
(মাজমূ‘ ফাতাওয়া)
৭️⃣ সালাফি বনাম আশ‘আরী: কোনটি নিরাপদ?
সালাফের বক্তব্য
ইমাম মালিক (রহ.):
ইস্তিওয়া জানা, কিভাবে অজানা, বিশ্বাস করা ওয়াজিব।
➡️ এই নীতি সালাফি পদ্ধতির মূল ভিত্তি।
বাস্তবতা
- সালাফি পদ্ধতি:
✔ সহজ
✔ নসসনির্ভর
✔ দর্শনমুক্ত - আশ‘আরী পদ্ধতি:
✔ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষামূলক
❌ সাধারণ মানুষের জন্য জটিল
📌 উপসংহার (Balanced Conclusion)
✔ সালাফি আকিদা হলো সালাফে সালেহীনের সরাসরি পথ
✔ আশ‘আরী আকিদা একটি প্রতিরক্ষামূলক ঐতিহাসিক স্কুল
✔ আকিদার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো সালাফের পথ
✨ নাজাত কেবল সেই পথে, যে পথে সাহাবারা ছিলেন।
✅ চার তাওহিদের সাথে আসমা–সিফাতের সম্পর্ক
🕌 চার তাওহিদ ও আসমা–সিফাতের সম্পর্ক
ভূমিকা
ইসলামে তাওহিদকে চার ভাগে ভাগ করা হয়:
1️⃣ তাওহিদুল রুবুবিয়্যাহ (ربوبية) – ربত্বের একত্ব
2️⃣ তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ (الوهية) – আল্লাহকে শুধুমাত্র উপাস্য করা
3️⃣ তাওহিদুল আস্মা ও সিফাত (الاسماء والصفات) – আল্লাহর নাম ও গুণাবলি
4️⃣ তাওহিদুল কিতাব ও রিসালা (كتاب و رسالت) – আল্লাহর কিতাব ও রিসালার প্রতি বিশ্বাস
এখানে আমরা দেখব, কিভাবে আসমা ও সিফাত প্রতিটি তাওহিদের সঙ্গে সম্পর্কিত।
১️⃣ তাওহিদুল রুবুবিয়্যাহ (তত্ত্ব: ربত্ব)
সংজ্ঞা:
আল্লাহই সমস্ত সৃষ্টির স্রষ্টা, পালনকর্তা ও নিয়ন্ত্রক।
আসমা–সিফাতের সম্পর্ক:
| আসমা/সিফাত | সম্পর্ক |
|---|---|
| খালিক (সৃষ্টিকর্তা) | সমস্ত জগৎ আল্লাহর সৃষ্টি। সূরা যুমার: ৬২ |
| বার‘ (পুনঃসৃষ্টি) | জগৎ পুনঃনির্মাণে আল্লাহর ক্ষমতা |
| রহমান, রহিম | সমস্ত জীবের প্রতি অনুগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ |
উপসংহার:
তাওহিদুল রুবুবিয়্যাহ নিশ্চিত হয় আল্লাহর ক্ষমতা, জীবনদাতা, নিয়ন্ত্রণকারী গুণাবলির মাধ্যমে।
২️⃣ তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ (তত্ত্ব: আল্লাহকে শুধুমাত্র উপাস্য করা)
সংজ্ঞা:
কেবল আল্লাহই পূজা-অর্পণের যোগ্য।
আসমা–সিফাতের সম্পর্ক:
| আসমা/সিফাত | সম্পর্ক |
|---|---|
| আল্লাহ (সর্বনাম) | একমাত্র উপাস্য |
| হক্কুল ইবাদাহ (সরাসরি ইবাদতের অধিকার) | সৃষ্টির সবই আল্লাহর অধীনে, তাই শুধু আল্লাহর ইবাদত |
উপসংহার:
আসমা ও সিফাতের জ্ঞানই নিশ্চিত করে যে, সৃষ্টির কেউ আল্লাহর সমতুল্য নয়, তাই একমাত্র আল্লাহই উপাস্য।
৩️⃣ তাওহিদুল আস্মা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি)
সংজ্ঞা:
আল্লাহর নাম ও গুণাবলি যেমন তিনি কুরআন ও হাদিসে বর্ণনা করেছেন, ঠিক তেমনই বিশ্বাস করা।
মূল বিষয়:
- কোনো সৃষ্টি বা মানুষ আল্লাহর সঙ্গে তুলনীয় নয় (তাশবিহ বর্জন)
- কোনো সিফাত অস্বীকার নয় (তাতীল বর্জন)
- কিভাবে–না জানা (তাফওয়ীদ)
উদাহরণ আসমা ও সিফাত:
- আল্লাহজ্ঞানী (আল-‘আলীম)
- সর্বশ্রোতা (আস-সামী‘)
- সর্বদ্রষ্টা (আল-বাসীর)
- চিরন্তন (আল-আওয়াল, আল-আখির)
উপসংহার:
তাওহিদুল আস্মা ও সিফাতই আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির সরাসরি বিশ্বাস।
৪️⃣ তাওহিদুল কিতাব ও রিসালা (কিতাব ও রিসালার প্রতি বিশ্বাস)
সংজ্ঞা:
আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তা সত্য এবং রাসূলদের মাধ্যমে এসেছে।
আসমা–সিফাতের সম্পর্ক:
| আসমা/সিফাত | সম্পর্ক |
|---|---|
| আল-হাকীম | কিতাবের বিধান পূর্ণ জ্ঞান ও বিচার অনুযায়ী |
| আল-‘আলীম | কিতাবের মাধ্যমে জ্ঞানের প্রকাশ |
| আল-রশীদ | ন্যায় ও সঠিক দিকনির্দেশনার প্রেরক |
উপসংহার:
আসমা ও সিফাত নিশ্চিত করে, কিতাব ও রাসূলের মাধ্যমে আল্লাহর জ্ঞান, ন্যায়, ও দিকনির্দেশনা সঠিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।
📌 সারসংক্ষেপ
| চার তাওহিদ | মূল সম্পর্ক | আসমা–সিফাত উদাহরণ |
|---|---|---|
| রুবুবিয়্যাহ | সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ | খালিক, বার‘, রহমান |
| উলুহিয়্যাহ | একমাত্র উপাস্য | আল্লাহ, হক্কুল ইবাদাহ |
| আস্মা ও সিফাত | নাম ও গুণাবলি বিশ্বাস | আল-‘আলীম, আস-সামী‘, আল-বাসীর |
| কিতাব ও রিসালা | নির্দেশনা ও জ্ঞান | আল-হাকীম, আল-‘আলীম, আল-রশীদ |
✨ উপসংহার:
আসমা ও সিফাত কেবল আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলিকে জানার মাধ্যম নয়, বরং চার তাওহিদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও শক্তি।
✅ ভুল আকিদার উদাহরণ ও তার জবাব
নিচে ওয়েবসাইটে আপলোড উপযোগী, দলিলভিত্তিক ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুযায়ী
👉 আসমা ও সিফাত বিষয়ে প্রচলিত ভুল আকিদার উদাহরণ
👉 প্রতিটির কুরআন–হাদিস ও সালাফের বক্তব্যসহ জবাব
পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হলো।
❌ আসমা ও সিফাত বিষয়ে ভুল আকিদার উদাহরণ ও তার জবাব
কুরআন–হাদিস ও আহলুস সুন্নাহর মানহাজে বিশ্লেষণ
ভূমিকা
আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলি (আসমা ও সিফাত) বিষয়ে ভুল ধারণা রাখা অত্যন্ত ভয়াবহ।
কারণ এটি সরাসরি তাওহিদের সাথে সম্পর্কিত।
ইসলামের ইতিহাসে কিছু দল আসমা ও সিফাত বিষয়ে চরমপন্থা অথবা শিথিলতা অবলম্বন করেছে, ফলে তারা ভুল আকিদায় পতিত হয়েছে।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এ বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।
🧠 আহলুস সুন্নাহর মূল নীতি (সংক্ষেপে)
نُثْبِتُ مَا أَثْبَتَهُ اللَّهُ لِنَفْسِهِ، بِلاَ تَشْبِيهٍ، وَلاَ تَكْيِيفٍ، وَلاَ تَحْرِيفٍ، وَلاَ تَعْطِيلٍ
অর্থ:
আল্লাহ নিজের জন্য যা প্রমাণ করেছেন—আমরা তা প্রমাণ করি,
তুলনা ছাড়া, কিভাবে নির্ধারণ ছাড়া, বিকৃতি ছাড়া, অস্বীকার ছাড়া।
📖 ইবনু তাইমিয়া (রহ.) — আল-আকীদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ
❶ ভুল আকিদা: তাশবিহ (تشبيه)
❌ আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা
উদাহরণ
“আল্লাহর হাত মানে মানুষের হাতের মতো।”
কেন ভুল?
কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন—
﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ﴾
তাঁর মতো কিছুই নেই।
📚 সূরা আশ-শূরা: ১১
✔ সঠিক আকিদা (জবাব)
আমরা বিশ্বাস করব—
- আল্লাহর হাত আছে (কারণ কুরআনে এসেছে)
- কিন্তু মানুষের হাতের মতো নয়
- কিভাবে—তা আল্লাহই জানেন
📖 ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন:
ইস্তিওয়া জানা, কিভাবে অজানা, বিশ্বাস করা ওয়াজিব, প্রশ্ন করা বিদআত।
❷ ভুল আকিদা: তাকয়ীফ (تكييف)
❌ আল্লাহর সিফাত কিভাবে—তা নির্ধারণ করা
উদাহরণ
“আল্লাহ আরশে বসে আছেন এভাবে বা ওইভাবে।”
কেন ভুল?
কারণ কুরআন–হাদিসে কিভাবে বলা হয়নি।
✔ সঠিক আকিদা (জবাব)
﴿وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا﴾
তারা তাঁকে জ্ঞানে পরিবেষ্টন করতে পারে না।
📚 সূরা ত্ব-হা: ১১০
➡️ কিভাবে নির্ধারণ করা আকিদাগত সীমালঙ্ঘন।
❸ ভুল আকিদা: তাহরিফ (تحريف)
❌ আল্লাহর সিফাতের অর্থ পরিবর্তন করা
উদাহরণ
“আল্লাহর ‘হাত’ মানে শুধু ক্ষমতা।”
কেন ভুল?
কারণ এটি প্রকাশ্য অর্থ বিকৃতি।
✔ সঠিক আকিদা (জবাব)
﴿بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ﴾
বরং তাঁর দুই হাত প্রসারিত।
📚 সূরা আল-মায়িদা: ৬৪
➡️ এখানে ক্ষমতা নয়, বরং হাতই বলা হয়েছে।
📖 ইবনু উসাইমীন (রহ.):
তাহরিফ হলো নসসের উপর সবচেয়ে বড় জুলুম।
❹ ভুল আকিদা: তা‘তীল (تعطيل)
❌ আল্লাহর সিফাত অস্বীকার করা
উদাহরণ
“আল্লাহর কোনো গুণ নেই, শুধু সত্তা।”
কেন ভুল?
কারণ এটি কুরআনের বহু আয়াত অস্বীকার করা।
✔ সঠিক আকিদা (জবাব)
﴿وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
📚 সূরা আশ-শূরা: ১১
➡️ গুণ অস্বীকার করা = কুরআন অস্বীকার।
❺ ভুল আকিদা: তাওহিদুল আসমা ও সিফাতে অতিরঞ্জন
❌ আল্লাহর নাম দিয়ে মানুষের নামকরণ
উদাহরণ
“রহমান”, “খালিক” মানুষের নাম রাখা
কেন ভুল?
কারণ কিছু নাম শুধু আল্লাহর জন্য খাস।
✔ সঠিক আকিদা (জবাব)
﴿هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا﴾
তুমি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে জানো?
📚 সূরা মারইয়াম: ৬৫
➡️ “আব্দুর রহমান” বৈধ, “রহমান” একা নয়।
❻ ভুল আকিদা: দোয়া সিফাত দিয়ে করা
❌ সিফাতকে সম্বোধন করে দোয়া
উদাহরণ
“হে আল্লাহর রহমত, আমাকে দাও।”
কেন ভুল?
কারণ দোয়া নাম দিয়ে করতে হয়, সিফাত দিয়ে নয়।
✔ সঠিক আকিদা (জবাব)
﴿فَادْعُوهُ بِهَا﴾
তোমরা তাঁকে তাঁর নাম দিয়েই ডাকো।
📚 সূরা আল-আ‘রাফ: ১৮০
✔ সঠিক: “ইয়া রহমান”
🛡️ বাতিল দলগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয়
| দল | ভুলের ধরন |
|---|---|
| জাহমিয়া | সিফাত সম্পূর্ণ অস্বীকার |
| মু‘তাজিলা | সিফাত অস্বীকার ও তাহরিফ |
| মুশাব্বিহা | সৃষ্টির সাথে তুলনা |
| আশ‘আরিদের চরমপন্থী অংশ | রূপক ব্যাখ্যা (তাহরিফ) |
📖 রেফারেন্স: মাজমূ‘ ফাতাওয়া — ইবনু তাইমিয়া (রহ.)
📌 উপসংহার
আসমা ও সিফাত বিষয়ে সঠিক আকিদা হলো—
- কুরআন–হাদিসে যা এসেছে তা যেমন এসেছে তেমনই বিশ্বাস করা
- কোনো বাড়াবাড়ি নয়, কোনো কমানো নয়
✨ নাজাতপ্রাপ্ত দল সেই, যারা সালাফে সালেহীনের পথে চলে।
🔖 SEO ট্যাগ (প্রস্তাবিত)
ভুল আকিদা, আসমা ও সিফাত, তাশবিহ তাহরিফ, ইসলামিক আকিদা, Ahle Sunnah Aqeedah
✅ আশ‘আরী ও সালাফি আকিদার তুলনা
📖 কুরআনে আসমাউল হুসনা সংক্রান্ত আয়াতসমূহ
🟢 ১. সূরা আল-আ‘রাফ : ১৮০
﴿وَلِلّٰهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنٰى فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾
বাংলা অনুবাদ:
আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোত্তম সুন্দর নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেই নামগুলো দ্বারা ডাকো। আর যারা তাঁর নামসমূহে বিকৃতি ঘটায়, তাদের বর্জন করো। অচিরেই তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে।
রেফারেন্স:
📚 সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত ১৮০
🟢 ২. সূরা আল-ইসরা : ১১০
﴿قُلِ ادْعُوا اللّٰهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمٰنَ ۖ أَيًّا مَّا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنٰى ۚ﴾
বাংলা অনুবাদ:
বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো অথবা রহমান নামে ডাকো—যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নামসমূহ।
রেফারেন্স:
📚 সূরা আল-ইসরা, আয়াত ১১০
🟢 ৩. সূরা ত্বা-হা : ৮
﴿اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنٰى﴾
বাংলা অনুবাদ:
আল্লাহ—তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দর নামসমূহ।
রেফারেন্স:
📚 সূরা ত্বা-হা, আয়াত ৮
🟢 ৪. সূরা আল-হাশর : ২২–২৪ (আসমাউল হুসনার সর্বাধিক সমৃদ্ধ আয়াতসমূহ)
﴿هُوَ اللّٰهُ الَّذِي لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۖ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيمُ﴾
﴿هُوَ اللّٰهُ الَّذِي لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ﴾
﴿هُوَ اللّٰهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنٰى ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ﴾
বাংলা অনুবাদ (সংক্ষেপে অর্থসহ):
তিনি আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই… তিনি সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকারী, আকৃতি দানকারী। তাঁরই জন্য সুন্দর নামসমূহ। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে।
রেফারেন্স:
📚 সূরা আল-হাশর, আয়াত ২২–২৪
📜 আসমাউল হুসনা সংক্রান্ত পূর্ণ সহিহ হাদিস (সনদসহ)
🟢 হাদিস: আসমাউল হুসনা ৯৯টি
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ:
﴿إِنَّ لِلّٰهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا، مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا، مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ﴾
📌 বাংলা অনুবাদ
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন—
নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে, একশ থেকে একটি কম। যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ করবে (অর্থ বুঝে বিশ্বাস করবে, মুখস্থ করবে ও আমল করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
📚 হাদিসের রেফারেন্স (সনদসহ)
- সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৭৩৬ / ৭৩৯২
- সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৭৭
- বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা (রাঃ)
- হাদিসের মান: মুত্তাফাকুন আলাইহ (সহিহ)
📝 গুরুত্বপূর্ণ আকীদাগত নোট
- কুরআনে আসমাউল হুসনা শব্দটি এসেছে, কিন্তু ৯৯টি নামের পূর্ণ তালিকা কুরআনে নেই
- হাদিসে নির্দিষ্ট তালিকা উল্লেখ নেই, শুধু সংখ্যা ও ফজিলত বলা হয়েছে
- পরবর্তী উলামায়ে কেরাম কুরআন ও সহিহ হাদিস থেকে নামগুলো সংগ্রহ করেছেন
আপনি চাইলে আমি পরবর্তী ধাপে—
- ✔️ ৯৯ নামের পূর্ণ তালিকা (আরবি–বাংলা অর্থসহ)
- ✔️ আসমাউল হুসনা ও আসমাউস সিফাতের পার্থক্য
- ✔️ প্রতিটি নামের আকীদাগত ব্যাখ্যা
🕌 আসমাউল হুসনা (৯৯ নাম) — আরবি ও বাংলা অর্থ
- الرَّحْمٰنُ — পরম দয়ালু
- الرَّحِيْمُ — অতি দয়ালু
- الْمَلِكُ — সর্বময় অধিপতি
- الْقُدُّوسُ — অতি পবিত্র
- السَّلَامُ — শান্তির উৎস
- الْمُؤْمِنُ — নিরাপত্তা দানকারী
- الْمُهَيْمِنُ — রক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক
- الْعَزِيزُ — পরাক্রমশালী
- الْجَبَّارُ — মহাপ্রতাপশালী
- الْمُتَكَبِّرُ — মহিমান্বিত
- الْخَالِقُ — সৃষ্টিকর্তা
- الْبَارِئُ — নিখুঁত স্রষ্টা
- الْمُصَوِّرُ — আকৃতি দানকারী
- الْغَفَّارُ — মহাক্ষমাশীল
- الْقَهَّارُ — সবকিছুর উপর প্রবল
- الْوَهَّابُ — দাতা
- الرَّزَّاقُ — রিযিকদাতা
- الْفَتَّاحُ — বিজয় দানকারী
- الْعَلِيْمُ — সর্বজ্ঞ
- الْقَابِضُ — রিযিক সংকুচিতকারী
- الْبَاسِطُ — রিযিক সম্প্রসারণকারী
- الْخَافِضُ — অবনমিতকারী
- الرَّافِعُ — উন্নীতকারী
- الْمُعِزُّ — সম্মান দানকারী
- الْمُذِلُّ — অপমানকারী
- السَّمِيعُ — সর্বশ্রোতা
- الْبَصِيرُ — সর্বদ্রষ্টা
- الْحَكَمُ — চূড়ান্ত বিচারক
- الْعَدْلُ — ন্যায়পরায়ণ
- اللَّطِيفُ — সূক্ষ্ম দয়ালু
- الْخَبِيرُ — সর্বজ্ঞাত
- الْحَلِيمُ — ধৈর্যশীল
- الْعَظِيمُ — মহান
- الْغَفُورُ — অধিক ক্ষমাশীল
- الشَّكُورُ — কৃতজ্ঞতার মূল্যদাতা
- الْعَلِيُّ — সর্বোচ্চ
- الْكَبِيرُ — মহান
- الْحَفِيظُ — সংরক্ষণকারী
- الْمُقِيتُ — রক্ষণাবেক্ষণকারী
- الْحَسِيبُ — হিসাবগ্রহণকারী
- الْجَلِيلُ — মহিমান্বিত
- الْكَرِيمُ — মহান দাতা
- الرَّقِيبُ — সদা পর্যবেক্ষক
- الْمُجِيبُ — দোয়া কবুলকারী
- الْوَاسِعُ — সর্বব্যাপী
- الْحَكِيمُ — প্রজ্ঞাময়
- الْوَدُودُ — পরম স্নেহশীল
- الْمَجِيدُ — গৌরবান্বিত
- الْبَاعِثُ — পুনরুত্থানকারী
- الشَّهِيدُ — সর্বসাক্ষী
- الْحَقُّ — চিরসত্য
- الْوَكِيلُ — কার্যনির্বাহী অভিভাবক
- الْقَوِيُّ — পরাক্রমশালী
- الْمَتِينُ — সুদৃঢ়
- الْوَلِيُّ — অভিভাবক
- الْحَمِيدُ — প্রশংসিত
- الْمُحْصِي — সবকিছু গণনাকারী
- الْمُبْدِئُ — সৃষ্টির সূচনাকারী
- الْمُعِيدُ — পুনরায় সৃষ্টিকারী
- الْمُحْيِي — জীবনদাতা
- الْمُمِيتُ — মৃত্যু দানকারী
- الْحَيُّ — চিরঞ্জীব
- الْقَيُّومُ — সবকিছুর ধারক
- الْوَاجِدُ — অফুরন্ত সম্পদের অধিকারী
- الْمَاجِدُ — সম্মানিত
- الْوَاحِدُ — একক
- الصَّمَدُ — অমুখাপেক্ষী
- الْقَادِرُ — সর্বশক্তিমান
- الْمُقْتَدِرُ — চূড়ান্ত ক্ষমতাধর
- الْمُقَدِّمُ — অগ্রবর্তীকারী
- الْمُؤَخِّرُ — পশ্চাৎকারী
- الْأَوَّلُ — প্রথম
- الْآخِرُ — শেষ
- الظَّاهِرُ — প্রকাশিত
- الْبَاطِنُ — অদৃশ্য
- الْوَالِي — শাসনকর্তা
- الْمُتَعَالِي — অতিশয় মহান
- الْبَرُّ — পরম উপকারী
- التَّوَّابُ — তাওবা কবুলকারী
- الْمُنْتَقِمُ — প্রতিশোধগ্রহণকারী
- الْعَفُوُّ — অধিক ক্ষমাকারী
- الرَّؤُوفُ — পরম স্নেহশীল
- مَالِكُ الْمُلْكِ — সার্বভৌম মালিক
- ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ — মহিমা ও সম্মানের অধিকারী
- الْمُقْسِطُ — ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী
- الْجَامِعُ — একত্রকারী
- الْغَنِيُّ — অমুখাপেক্ষী
- الْمُغْنِي — অভাবমুক্তকারী
- الْمَانِعُ — প্রতিরোধকারী
- الضَّارُّ — ক্ষতিসাধনকারী
- النَّافِعُ — উপকারকারী
- النُّورُ — আলো
- الْهَادِي — পথপ্রদর্শক
- الْبَدِيعُ — অনন্য স্রষ্টা
- الْبَاقِي — চিরস্থায়ী
- الْوَارِثُ — চূড়ান্ত উত্তরাধিকারী
- الرَّشِيدُ — সঠিক পথনির্দেশক
- الصَّبُورُ — পরম ধৈর্যশীল
- اللّٰهُ — একমাত্র ইলাহ, উপাস্য


https://shorturl.fm/MmVu4