হাতে-পায়ের নখ বড় রাখা কি জায়েজ? নখ কাটার সুন্নত, গুনাহ ও ইসলামের বিধান: কুরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা
Power Words:
গুরুত্বপূর্ণ, চমকপ্রদ, শক্তিশালী, সতর্কতামূলক, বিস্ময়কর, অপরিহার্য, কার্যকর, মূল্যবান, শিক্ষণীয়, হৃদয়স্পর্শী
ভূমিকা
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের আকীদা, ইবাদত, লেনদেন, সামাজিক আচরণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও ইসলাম অত্যন্ত সুন্দর ও সুষম নির্দেশনা প্রদান করেছে। একজন মুসলমানের বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অভ্যন্তরীণ পবিত্রতাও গুরুত্বপূর্ণ। হাত-পায়ের নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা, বগলের লোম পরিষ্কার করা এবং নাভির নিচের লোম অপসারণ করা ইসলামের ফিতরাত বা স্বাভাবিক সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমান যুগে অনেক পুরুষ ও মহিলা ফ্যাশনের কারণে হাত-পায়ের নখ বড় রাখেন। বিশেষত অনেক নারী সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দীর্ঘ নখ রাখেন এবং বিভিন্ন রঙের নেইলপলিশ ব্যবহার করেন। প্রশ্ন হলো—ইসলামে এর বিধান কী? নখ বড় রাখা কি জায়েজ? কতদিন পর্যন্ত নখ না কাটলে গুনাহ হবে? কুরআন ও হাদিস এ ব্যাপারে কী বলে?
—

ইসলামে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ﴾
উচ্চারণ: Inna Allāha yuḥibbut-tawwābīna wa yuḥibbul-mutaṭahhirīn.
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।”
— Al-Baqarah
এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা আল্লাহর প্রিয় বিষয়।
—
নখ কাটা ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ، وَالسِّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَظْفَارِ…
অর্থ: “দশটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে গোঁফ ছোট করা, দাড়ি বৃদ্ধি করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া এবং নখ কাটা…”
— Sahih Muslim
এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে নখ কাটা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
—
নখ কাটার সর্বোচ্চ সময়সীমা
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمِ الْأَظْفَارِ، وَنَتْفِ الْإِبْطِ، وَحَلْقِ الْعَانَةِ، أَنْ لَا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً.
বাংলা অনুবাদ
হযরত আনাস ইবন মালিক (রা.) বলেন,
“আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা এবং নাভির নিচের (লজ্জাস্থানের) লোম অপসারণ করার ব্যাপারে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে আমরা এগুলো চল্লিশ রাতের বেশি অবহেলায় না রেখে দিই।”
হাদিসের রেফারেন্স
- Sahih Muslim
- কিতাব: كتاب الطهارة (পবিত্রতা অধ্যায়)
- অধ্যায়: خصال الفطرة (ফিতরাতের বৈশিষ্ট্যসমূহ)
- হাদিস নম্বর: 258 (অনেক প্রকাশনায় 257 বা 258 হিসেবে নম্বরায়িত হতে পারে)
হাদিসের ব্যাখ্যা
১. এটি ফিতরাতের সুন্নত
এই হাদিসে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছন্নতার কাজ উল্লেখ করা হয়েছে—
- গোঁফ ছাঁটা
- নখ কাটা
- বগলের লোম পরিষ্কার করা
- নাভির নিচের (লজ্জাস্থানের) লোম অপসারণ করা
এসবকে ইসলামী শরীয়তে মানুষের স্বাভাবিক ও পবিত্র স্বভাব (ফিতরাত)-এর অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
২. চল্লিশ দিনের সীমা
হাদিসে “أَنْ لَا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً” দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, এসব পরিচ্ছন্নতার কাজ চল্লিশ দিনের বেশি বিলম্ব করা উচিত নয়।
অর্থাৎ—
- প্রয়োজন হলে সাপ্তাহিক বা আরও আগে করা উত্তম।
- তবে কোনো অবস্থাতেই চল্লিশ দিনের বেশি ফেলে রাখা উচিত নয়।
৩. অধিকাংশ আলেমের মত
ফকীহগণ বলেন, এসব কাজ নিয়মিত করা সুন্নত এবং পরিচ্ছন্নতার অংশ। চল্লিশ দিনের বেশি অবহেলা করা মাকরূহ তাহরীমীর নিকটবর্তী বা গুরুতর অপছন্দনীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাই মুসলিমের উচিত নিয়মিত নিজের পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নবান থাকা।
৪. ইসলামের পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে ইসলাম কেবল ইবাদতের ধর্ম নয়; বরং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক সৌন্দর্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেয়। শরীর পরিচ্ছন্ন রাখা একজন মুমিনের উত্তম চরিত্র ও সুন্নতের অনুসরণের অংশ।
শিক্ষণীয় বিষয়
- ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
- গোঁফ, নখ, বগলের লোম ও নাভির নিচের লোম নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সুন্নত।
- এসব কাজ চল্লিশ দিনের বেশি বিলম্ব করা উচিত নয়।
- নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য ও ইসলামী আদর্শের প্রতিফলন।
এই হাদিস মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা ও সুন্নতের অনুসরণের গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
—
নখ কাটা ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার দশটি বৈশিষ্ট্য (ফিতরাত) উল্লেখ করেছেন। এ হাদিসে নখ কাটাকে ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত সুন্নত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ:قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ، وَالسِّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَظْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبْطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ. قَالَ زَكَرِيَّاءُ: قَالَ مُصْعَبٌ: وَنَسِيتُ الْعَاشِرَةَ، إِلَّا أَنْ تَكُونَ الْمَضْمَضَةَ.
বাংলা অনুবাদ
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“ফিতরাতের (স্বাভাবিক মানবীয় ও ইসলামী পরিচ্ছন্নতার) দশটি বিষয় রয়েছে:
১. গোঁফ ছোট করা।
২. দাড়ি বৃদ্ধি করা।
৩. মিসওয়াক করা।
৪. নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা (ইস্তিনশাক)।
৫. নখ কাটা।
৬. আঙুলের গিঁট ও ভাঁজে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা।
৭. বগলের লোম উপড়ে ফেলা।
৮. নাভির নিচের (লজ্জাস্থানের) লোম অপসারণ করা।
৯. পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা (ইস্তিঞ্জা)।”বর্ণনাকারী বলেন: “দশম বিষয়টি আমার মনে নেই; তবে সম্ভবত তা ছিল কুলি করা (মাজমাজা)।”
হাদিসের রেফারেন্স
- Sahih Muslim
- কিতাব: كتاب الطهارة (পবিত্রতা)
- অধ্যায়: خصال الفطرة (ফিতরাতের বৈশিষ্ট্য)
- হাদিস নম্বর: ২৬১ (আন্তর্জাতিক নম্বরায়ন; বিভিন্ন মুদ্রণে সামান্য পার্থক্য হতে পারে)
ফিতরাতের দশটি বিষয়
হাদিসে উল্লেখিত ফিতরাতের বিষয়গুলো হলো—
| ক্রম | বিষয় | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| ১ | গোঁফ ছোট করা | ঠোঁট ঢেকে না যায় এমনভাবে গোঁফ ছাঁটা। |
| ২ | দাড়ি বৃদ্ধি করা | দাড়ি রাখা ও বড় হতে দেওয়া। |
| ৩ | মিসওয়াক করা | দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখা। |
| ৪ | নাকে পানি দেওয়া (ইস্তিনশাক) | ওজুর সময় নাক পরিষ্কার করা। |
| ৫ | নখ কাটা | হাত-পায়ের নখ ছোট ও পরিচ্ছন্ন রাখা। |
| ৬ | আঙুলের গিঁট পরিষ্কার করা | আঙুলের ভাঁজে জমে থাকা ময়লা দূর করা। |
| ৭ | বগলের লোম উপড়ে ফেলা | শরীরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। |
| ৮ | নাভির নিচের লোম অপসারণ | লজ্জাস্থানের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা। |
| ৯ | ইস্তিঞ্জা করা | পেশাব-পায়খানার পর পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা। |
| ১০ | কুলি করা (মাজমাজা) | বর্ণনাকারীর ধারণা অনুযায়ী দশম বিষয়টি কুলি করা। |
হাদিসের ব্যাখ্যা
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ এমন কিছু আমলের কথা বলেছেন, যা মানুষের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের অংশ। এগুলোকে ফিতরাত বলা হয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহ মানুষের স্বভাবগতভাবে যে পরিচ্ছন্ন জীবনব্যবস্থা পছন্দ করেন।
নখ কাটা এ তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। বড় নখে ময়লা ও জীবাণু জমে থাকে, যা স্বাস্থ্য ও ইবাদতের পরিচ্ছন্নতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ইসলাম নিয়মিত নখ কাটার প্রতি উৎসাহ দিয়েছে।
এ হাদিসের সঙ্গে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসটি মিলিয়ে দেখা যায় যে, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের লোম পরিষ্কার করা এবং নাভির নিচের লোম অপসারণ ৪০ দিনের বেশি বিলম্ব করা উচিত নয়। এ কারণেই অধিকাংশ ফকিহ ৪০ দিনের বেশি নখ না কাটাকে শরিয়তের নির্দেশনার পরিপন্থী এবং হানাফি ফিকহে মাকরূহে তাহরিমি বলে উল্লেখ করেছেন।
শিক্ষণীয় বিষয়
- নখ কাটা ইসলামের ফিতরাতভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
- পরিচ্ছন্নতা ঈমানের সৌন্দর্য ও ইসলামী জীবনব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।
- নিয়মিত নখ কাটা স্বাস্থ্য, পবিত্রতা ও সুন্নতের অনুসরণের নিদর্শন।
- নখ বড় হয়ে গেলে দ্রুত কেটে ফেলা উত্তম এবং ৪০ দিনের বেশি অবহেলা করা উচিত নয়।
নখ বড় রাখা কেন অপছন্দনীয়?
১. ময়লা জমে
দীর্ঘ নখের নিচে ময়লা, জীবাণু ও অপবিত্র বস্তু জমা হয়।
২. পরিচ্ছন্নতার পরিপন্থী
ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ হিসেবে শিক্ষা দেয়।
৩. সুন্নতের বিরোধিতা
রাসূল ﷺ নিয়মিত নখ কাটার নির্দেশ দিয়েছেন।
৪. অজু ও গোসলের সমস্যা
যদি নখে এমন কোনো পদার্থ থাকে যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে অজু ও গোসল শুদ্ধ হবে না।
—
মহিলারা নখ বড় রাখলে কী হবে?
অনেক নারী সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে নখ বড় রাখেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে—
১. নখ বড় রাখা নিজে কুফর নয়।
২. ৪০ দিনের বেশি রাখলে গুনাহের আশঙ্কা রয়েছে।
৩. দীর্ঘ নখে নাপাক বস্তু জমলে তা অপবিত্রতার কারণ হতে পারে।
৪. নামাজ, অজু ও ইবাদতের প্রতি উদাসীনতা সৃষ্টি করলে তা আরও গুরুতর বিষয়।
মহিলাদের জন্য সতর্কতা
আজকাল কৃত্রিম নখ (Artificial Nails) ব্যবহার করা হয়। এগুলো যদি পানির প্রবেশে বাধা দেয়, তাহলে অজু ও গোসল সহীহ হবে না।
—
নখ বড় রাখার জন্য কি নির্দিষ্ট শাস্তি আছে?
সহীহ কুরআন ও হাদিসে নখ বড় রাখার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দুনিয়াবি বা আখিরাতের শাস্তি উল্লেখ নেই।
তবে—
সুন্নত পরিত্যাগ করা অপছন্দনীয়।
দীর্ঘদিন নখ না কাটা গুনাহের কারণ হতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা অবহেলা করা ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী।
অতএব “নখ বড় রাখলে জাহান্নামে যাবে” বা “নির্দিষ্ট শাস্তি হবে”—এ ধরনের কথা সহীহ দলিল ছাড়া বলা উচিত নয়।
—
সাহাবায়ে কেরামের আমল
সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তারা নিয়মিত নখ কাটতেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নত অনুসরণ করতেন।
Anas ibn Malik সহ বহু সাহাবী এ বিষয়ে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
—
নখ কাটার উত্তম সময়
ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন—
সপ্তাহে একবার নখ কাটা উত্তম।
বিশেষত জুমার আগে নখ কাটা ভালো।
তবে কোনো নির্দিষ্ট দিন বাধ্যতামূলক নয়।
—
নখ কাটার ইসলামী আদব
১. বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা।
২. পরিষ্কার স্থানে নখ কাটা।
৩. নখ ছড়িয়ে না ফেলা।
৪. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
৫. ৪০ দিনের বেশি বিলম্ব না করা।
—
গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
হাতে-পায়ের নখ বড় রাখা আধুনিক ফ্যাশনের অংশ হতে পারে, কিন্তু একজন মুসলমানের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নতই সর্বোত্তম আদর্শ। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা এবং সুন্নতের অনুসরণ একজন মুমিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
—
উপসংহার
কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বলা যায় যে নখ কাটা ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। ৪০ দিনের বেশি নখ না কাটা শরীয়তের নির্দেশনার পরিপন্থী। পুরুষ হোক বা মহিলা—সবার জন্যই নিয়মিত নখ কাটা উত্তম। তবে নখ বড় রাখার জন্য কুরআন ও সহীহ হাদিসে কোনো নির্দিষ্ট শাস্তি উল্লেখ নেই। তাই এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত বক্তব্য না দিয়ে সহীহ দলিলের ভিত্তিতে মানুষকে পরিচ্ছন্নতা ও সুন্নতের প্রতি উৎসাহিত করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নত অনুসরণ করে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

