Islamic Life

সংক্ষিপ্তাকারে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং উত্তরণের উপায়

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মধ্যপ্রাচ্যের সংকট

Table of Contents

সংক্ষিপ্তাকারে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং উত্তরণের উপায়

 

 

মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রচ্যের দেশসমূহের পরিচিতি

মধ্যপ্রাচ্য হলো : এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী একটি অঞ্চল। ১৮টি রাষ্ট্র নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য গঠিত। এর মধ্যে ১৩টি দেশই হলো আরব। আয়তনে সৌদি আরব ও জনসংখ্যায় মিশর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস আদিকাল থেকেই প্রসিদ্ধ ছিল এবং এর ইতিহাস থেকেই এটি সারা বিশ্বের এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। ইতিহাসের আদিকাল কাল থেকে এই অঞ্চল নানান কারণে বিখ্যাত ছিল। ধর্মীয় কারণে এই অঞ্চল যুগে যুগে বিখ্যাত ও শ্রদ্ধেয় হয়ে রয়েছে পৃথিবীর বুকে। যেমন ইসলাম ধর্ম, ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্ম  ইত্যাদি ধর্মের আবির্ভাব প্রচার ও প্রসার এই অঞ্চলে হয়েছে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যে শুস্ক ও গরম জলবায়ু বিদ্যমান। এর চারপাশে প্রধান কিছু নদী রয়েছে যা সীমিত এলাকায় কৃষি ব্যবস্থায় সহায়তা করে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সমূহ

মধ্যপ্রাচ্যে ১৮ টি দেশ রয়েছে। যথা : ইরান, ইরাক, জর্ডান, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, সিরিয়া,  লেবানন, সাইপ্রাস এবং দখলদার ইসরাইল। 

  

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট (সমস্যা) 

হায় আফসোস! সমগ্র বিশ্বের মুসলিম কান্ট্রির শাসকগণ আজ অভিশপ্ত ই’য়া’হু’দী-না’সা’রা’দের নিকট জিম্মি। তারা সাধীনতার নামে পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ। তারা মনস্তাত্ত্বিকভাবে এবং চিন্তার জগতেও পরাধীনতা নামক অসহায়ত্বের ডিপ্রেশন ও মরণ ব্যধিতে আক্রান্ত। সত্যের পক্ষে কথা না বলতে তাদের মুখে ঢিলা-কুলুখ এঁটে দেয়া হয়েছে। তবে ফর্মালিটি বজায় রাখার মহাস্বার্থে কথার কথা শুধুমাত্র সেমিনার, বিবৃতি, নিন্দা, ঘৃণা ও মৌখিক প্রতিবাদ অপশনটুকু সেন্সলেজ ও পাওয়ার লেজের ন্যায় রাখা হয়েছে।

 

ফিলিস্তিন দ্বিখন্ডিত হওয়া অজানা ইতিকথা

মাথা গোঁজার স্থান বিহীন ব্যক্তি কর্তৃক, স্বয়ং সম্পন্ন বাড়ির মালিককে বিতাড়িত করার হুমকি। এরা হচ্ছে বিশ্ব স’ন্ত্রা’সী অভিশপ্ত ই’স’রা’য়ে’লে’র / ই’জ’রা’য়ে’লে’র ই’য়া’হু’দীগণ। পৃথিবীর সর্বমহল থেকে বিতাড়িত হয়ে, কোথাও নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়ায় ফিলিস্তিনের আপামর জনগণ তাদের আশ্রয় দেন। এরা ঠিক এভাবেই এসেছিল ১৯৪০ সালে ফিলিস্তিনে, একটু আশ্রয় পাওয়ার আশায়।

 

মুসলিমদের সরলতায় ইয়াহুদীদের সুযোগের সদ্ব্যবহার

ফকিরের বেশে, খালী পায়ে জুতা-সেন্ডেল ব্যতীত, উদলা গায়ে, ফিলিস্তিনে আসে। আর ফিলিস্তিনিরাও  বাঙ্গালীদেরমত দয়ার সাগরের ন্যায় নিজেদের জায়গা, খাবার, পরিধানের কাপড় দিয়ে সাহায্য করল আর তারাই হলো আজকের ইজরাইলিদের পূর্ব পুরুষ, (ভাববার বিষয় অনেক, একটু ভেবে দেখেন)।

 

ইসলামের সমহান আদর্শ ও মহানুভবতা

ফিলিস্তিনের আবেগী আপমর জনসাধারণ ইজরাইলিদের পূর্ব পুরুষদেরকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নই বরং মানবিক দৃষ্টিতেই তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তা তাদের অবস্থা এমন যেন, বাড়ির মালিক যাদেরকে থাকার সুযোগ করে দিলেন আজ তারাই বাড়ির মালিকদেরকেই বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার ঘোষণা দিল। আফসোস! লাগে নিমক হারামীদের জন্য আর দুঃখ লাগে ফিলিস্তিনিদের জন্য যারা মানবতার খাল খনন করে নিমক হারাম ও অভিশপ্ত কুমির নামক ইয়াহদীদের প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য।

 

মুসলিম নিধনে মুসলিমকে অপব্যবহার

বিশ্ব স’ন্ত্রা’স নামে খ্যাত ই’য়া’হু’দী-না’সা’রা জাতি-গেষ্টি মুসলিম নিধনে অপর মুসলিম নামধারী কপট মার্কা মুনাফিকদেরকে ব্যবহার করছে। মুসলিমরা পরস্পরের নিজেরা নিজেরা আত্মঘাতী আক্রমণে ব্যস্ত আর এই ফাঁকে তারা মুসলিমদের নিঃশেষ করছে। তারা বিচক্ষণ ও দক্ষতার সাথে মুসলিমদের ভূগর্ভে মহান আল্লাহ কর্তৃক রিজার্ভকৃত পৃথিবীর ৬৫% খনিজ পদার্থ, রত্নভান্ডার, স্বর্ণ-রৌপ্য, পেট্রোল-ডিজেল, তৈল, হীরক ও পান্না কুক্ষিগত করে মুসলিমদেরকে দারিদ্র্যের অতলগহ্বরে নিমজ্জিত করছে। মুসলিম শাসক, বীর সেনানীরা আজ ভোগ-বিলাস, আরাম-আয়েশ এবং নারী ও মদ্যপে গা এলিয়ে আমোদ-প্রমোদে মেতে উঠছে।

 

সমাধান বা উত্তরণের উপায়

মুসলিম মিল্লাতের এহেন ক্রান্তিলগ্নে, অবর্ণনীয় নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায়

১. তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন, তাওয়াক্কুল (আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা-ভরসা), সবর (ধৈর্য্য-সহিষ্ণ হওয়া), ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান হওয়া এবং মানবীয় ও নৈতিকতার উৎকর্ষ সাধনে সচেষ্ট হওয়া।

২. বিশ্ব স’ন্ত্রা’স’দের আনুগত্য, বন্ধুত্ব পরিহার করতঃ নিজেদের মধ্যে সুসংঘটিত হওয়া।

৩. নিজেদের ভিতর ঐক্যবদ্ধ হওয়াসহ মুসলিম জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা।

৪. সমসাময়িক বিষয়ে শুধুমাত্র ইস্যু ভিত্তিক সরব না থেকে সর্বদা সরব থাকা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে সর্বাত্মক আত্মত্যাগে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।

৫. মুসলিম জাতির বৃহৎ স্বার্থ রক্ষার্থে ক্ষুদ্র ও ব্যক্তিগত স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সকল মতবেধ ভুলে মধ্যপ্রাচ্যের সমাধানে সর্বোচ্চ সহযোগিতায় এগিয়ে আসা।

৬. মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট মুসলিম জাতির বিজয় সুনিশ্চিত করণে অধিক পরিমাণে সাওম (রোযা) পালন, সালাত ও দু’আর মাধ্যমে প্রার্থনা করা।

৭. মানবাধিকার সংরক্ষণ করা এবং বিপন্ন মানুষকে মানবিক সাহায্য-সহযোগিতা করা আবশ্যক।

৮. আবেগের সাথে বিবেক জাগ্রত রেখে যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করতে হবে। অন্যথায় চরমভাবে ভুলের মাশুল দিতে হবে।

 

উপসংহার

হে আল্লাহ! আমাদেরকে এক ও নেক হওয়ার তাওফিক দিন, আপনার কুদরতী সাহায্য দ্বারা বিশ্বের সকল নির্যাতিত, নিপীড়িত মাজলুমের সাহায্য করুন, ফিলিস্তিনের পূণ্যভূমি এবং মুসলিমদের অন্তর বাইতুল আক্বসাকে মুসিলিমদের নিকট ফিরিয়ে দিন, সর্বোপরি ফিলিস্তিনের মুসলিমদের বিজয় দান করুন, আমীন।

 

One thought on “সংক্ষিপ্তাকারে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং উত্তরণের উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *