Islamic Life

    হিন্দু সভ্যতায় নারীর মর্যাদা এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

    হিন্দু সভ্যতায় নারীর মর্যাদা এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হিন্দু সভ্যতায় নারীর মর্যাদা এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

    হিন্দু সভ্যতায় নারীর মর্যাদা এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

    ১. প্রাচীন হিন্দু সভ্যতায় নারীর মর্যাদা:
    প্রায় ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হিন্দু সভ্যতার প্রাচীন যুগে নারীদের অবস্থান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। নারীকে দেবী হিসেবে পূজা করা হলেও বাস্তব জীবনে তাদের অধিকার ছিল না বললেই চলে। ‘মনুস্মৃতি’-তে নারীদের অধীনতায় রাখার কথা বলা হয়েছে—
    “না স্ত্রীয়ঃ স্বাতন্ত্র্যমর্হতি” অর্থাৎ নারী কখনো স্বাধীনতার যোগ্য নয়।
    শৈশবে পিতার, যৌবনে স্বামীর, বার্ধক্যে পুত্রের অধীনে থাকা উচিত বলে এই সভ্যতায় বিশ্বাস করা হতো। বিধবা নারীদের জীবিত দাহ (সতীদাহ) প্রথা এ সময়েই চালু ছিল, যা নারীর প্রতি এক নির্মম বৈষম্য।

    ২. সতীদাহ প্রথার উৎপত্তি ও কারণ:
    নারীর ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বামীর প্রতি ‘চিরন্তন ভক্তি’-র নামে সতীদাহ প্রথা চালু হয়, যাতে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীকে একই চিতায় পুড়িয়ে ফেলা হতো। সমাজে বিধবার জীবনকে এতই অবমাননাকর করে তোলা হয়েছিল যে অনেক নারী স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে এই নির্মম মৃত্যু বরণ করতেন।

    ৩. সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তি:
    রাজা রামমোহন রায় এই বর্বর প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তাঁর নেতৃত্বে ও ইংরেজ শাসকের সহযোগিতায় ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ সরকার সতীদাহ প্রথাকে আইন করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

    ৪. হিন্দু সমাজে নারীর উত্তরাধিকার:
    প্রাচীন কালে হিন্দু নারীরা পিতার সম্পত্তিতে কোনো অংশ পেতেন না। মনুস্মৃতি অনুযায়ী, সম্পত্তির উত্তরাধিকার ছিল কেবল পুত্রের। ১৯৫৬ সালে “হিন্দু উত্তরাধিকার আইন” প্রণীত হয়, কিন্তু এতে সম্পূর্ণ সমানাধিকার ছিল না। ২০০৫ সালে আইনে সংশোধন এনে পুত্র ও কন্যাকে সমান অংশীদার করা হয়।

    ৫. ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার:
    ইসলামই সর্বপ্রথম নারীর শিক্ষা, সম্মান, সম্পত্তির মালিকানা, বিবাহে সম্মতি, তালাকের অধিকার ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেছে। কুরআনে বলা হয়েছে:
    “পুরুষদের জন্য যা কিছু রেখে যায়, তাতে নারীও অংশীদার।” (সূরা নিসা, ৪:৭)
    “আমি তোমাদের মধ্যে কারও কাজকে নিষ্ফল করবো না—পুরুষ হোক বা নারী, তোমরা একে অপরের অংশ।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৯৫)

    ৬. তুলনামূলক দৃষ্টিকোণ:
    যেখানে হিন্দু সভ্যতায় নারীর অধিকার এক সময় মর্যাদাপূর্ণ ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে দারুণ অবনতি ঘটে, ইসলাম প্রারম্ভ থেকেই নারীর মর্যাদা ও অধিকারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং এসব অধিকার কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সংরক্ষিত ও সুনিশ্চিত।

    হিন্দু সভ্যতায় নারীর মর্যাদা এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
    হিন্দু সভ্যতায় নারীর মর্যাদা এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

    29 thoughts on “হিন্দু সভ্যতায় নারীর মর্যাদা এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *