Islamic Life

এলমে ফিকহ কাকে বলে?

এলমে ফিকহ কাকে বলে?

এলমে ফিকহ: সংজ্ঞা, উৎপত্তি ও গুরুত্ব

এলমে ফিকহ কাকে বলে?

‘ফিকহ’ শব্দটি আরবি (الفقه) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ গভীর জ্ঞান ও উপলব্ধি। ইসলামী শরীয়তের আলোকে এটি এমন এক জ্ঞানশাস্ত্র, যা মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ
(সুরা আত-তাওবা: ১২২)

অর্থাৎ, “তবে কেন তাদের প্রত্যেক দলের মধ্য থেকে একদল বের হয় না, যাতে তারা দীনে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে?”

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
(বুখারি, হাদিস: ৭১)

অর্থাৎ, “যার প্রতি আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তাকে দীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।”

ফিকহের উৎপত্তি ও বিকাশ

ফিকহের ভিত্তি কুরআন ও সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সরাসরি ওহির মাধ্যমে শরীয়তের বিধান নির্ধারিত হতো এবং তিনি নিজেই তা ব্যাখ্যা করতেন। এরপর সাহাবাদের যুগে ইজতিহাদের মাধ্যমে নতুন সমস্যার সমাধান করা হতো।

তাবেয়ী ও পরবর্তী যুগে ইসলামী আইন আরও সুসংগঠিত হয় এবং চার মাজহাব—হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব গঠিত হয়।

ফিকহের গুরুত্ব ও অবস্থান

ফিকহ শুধু ইবাদত-বন্দেগির জন্য নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। এটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শরীয়তের বিধান প্রয়োগে সহায়ক।

আধুনিক যুগে ফিকহ বিভিন্ন নতুন বিষয়ে শরীয়তের দিকনির্দেশনা প্রদান করছে, যেমন ইসলামী ব্যাংকিং, চিকিৎসা নীতিমালা এবং ডিজিটাল লেনদেনের বিধান।

ফিকহের এই গভীরতাই ইসলামের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *