স্বর্ণ ও রূপার যাকাতের নিসাব
কুরআনের আলোকে
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনে যাকাত প্রদানের বিষয়ে বলেন:
وَٱلَّذِينَ يَكۡنِزُونَ ٱلذَّهَبَ وَٱلۡفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ فَبَشِّرۡهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
“যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।”
(সূরা আত-তওবা: ৩৪)
হাদিসের আলোকে
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
لَيْسَ فِي مَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الْوَرِقِ صَدَقَةٌ
“পাঁচ উকিয়ার (৫৯৫ গ্রাম) কম রূপায় যাকাত নেই।”
(সহিহ মুসলিম: ৯৮০)
এছাড়া, রাসূল (ﷺ) স্বর্ণের নিসাব সম্পর্কে বলেন:
لَيْسَ فِي أَقَلِّ مِنْ عِشْرِينَ مِثْقَالًا مِنَ الذَّهَبِ زَكَاةٌ
“২০ মিসকাল (৮৭.৪৮ গ্রাম) স্বর্ণের কম হলে যাকাত নেই।”
(আবু দাউদ: ১৫৭৩)
নিসাবের পরিমাণ ও যাকাতের হার
ইসলামে স্বর্ণ ও রূপার নির্দিষ্ট পরিমাণ নিসাব রয়েছে, যা নিম্নরূপ:
- স্বর্ণ: ২০ মিসকাল = ৮৭.৪৮ গ্রাম
- রূপা: ২০০ দিরহাম = ৫৯৫ গ্রাম
- যাকাতের হার: উভয়ের উপর ২.৫% (১/৪০ অংশ)
বিভিন্ন মাজহাবের মতামত
হানাফি মাজহাব
হানাফি ফিকহ মতে, যে ব্যক্তির কাছে নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ বা রূপা এক বছর ধরে থাকে, তার উপর ২.৫% হারে যাকাত ফরজ হবে।
মালিকি মাজহাব
মালিকি মাজহাব অনুসারে, যাকাত শুধুমাত্র সেই স্বর্ণ ও রূপার উপর ফরজ, যা সঞ্চিত বা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে রাখা হয়।
শাফেয়ি মাজহাব
শাফেয়ি ফিকহ মতে, অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত স্বর্ণের উপর যাকাত নেই, তবে যদি তা বাণিজ্যের জন্য হয়, তাহলে যাকাত দিতে হবে।
হাম্বলি মাজহাব
হাম্বলি মাজহাব মতে, যদি কোনো অলংকার নিসাব পরিমাণ হয়, তবে তার উপরও যাকাত ফরজ হবে।

