Islamic Life

ব্যবসায়িক মালের যাকাত

ব্যবসায়িক মালের যাকাত ব্যবসায়িক মালের যাকাত

 

ব্যবসায়িক মালের যাকাত: কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশদ ব্যাখ্যা

কুরআনের দৃষ্টিতে ব্যবসায়িক মালের যাকাত

আল্লাহ তাআলা বলেন:

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
“তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ কর, যা তাদের পবিত্র করবে এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবে এবং তুমি তাদের জন্য দোয়া কর। নিশ্চয়ই তোমার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তির কারণ।”
(সূরা আত-তওবা: ১০৩)

এ থেকে বোঝা যায়, ব্যবসার মাল থেকেও যাকাত দিতে হবে, যা সম্পদকে পবিত্র ও বরকতময় করে।


হাদিসের আলোকে ব্যবসায়িক মালের যাকাত

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

تُؤْخَذُ الصَّدَقَةُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ
“সম্পদশালীদের কাছ থেকে যাকাত নেওয়া হবে এবং তা দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হবে।”
(সহিহ বুখারি: ১৩৯৫)

এ হাদিসের দ্বারা বোঝা যায়, ব্যবসার মাল থেকেও যাকাত দিতে হবে এবং তা প্রকৃত হকদারদের মাঝে বণ্টন করতে হবে।


ব্যবসায়িক মালের যাকাতের নিয়ম

১. নিসাব পরিমাণ ব্যবসার সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ

  • ব্যবসার মাল ও নগদ অর্থের পরিমাণ যদি ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ বা ৫৯৫ গ্রাম রূপার মূল্যের সমান বা বেশি হয়, তবে তার উপর যাকাত ফরজ হবে।
  1. এক বছর পূর্ণ হলে যাকাত দিতে হবে
    • ব্যবসার মাল এক ইসলামি বছর অতিক্রম করলে তাতে ২.৫% (১/৪০ অংশ) হারে যাকাত দিতে হবে।
  2. বাণিজ্যিক সম্পদের মূল্যায়ন করা
    • বছর শেষে ব্যবসার সকল সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।

যাকাতের বণ্টন পদ্ধতি

কুরআনে যাকাতের খাত নির্ধারণ করে বলা হয়েছে:

إِنَّمَا ٱلصَّدَقَٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱلۡعَٰمِلِينَ عَلَيۡهَا وَٱلۡمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمۡ وَفِي ٱلرِّقَابِ وَٱلۡغَٰرِمِينَ وَفِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِۖ فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ
“নিশ্চয়ই সদকা (যাকাত) নির্দিষ্ট: ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়ের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, যাদের মন আকৃষ্ট করতে হয়, দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের সাহায্যার্থে, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য।”
(সূরা আত-তওবা: ৬০)

এই ৮ শ্রেণির মাঝে যাকাত বিতরণ করতে হবে:

  1. ফকির (অত্যন্ত দরিদ্র)
  2. মিসকিন (যারা অল্প আয় করে, কিন্তু অভাব পূরণ হয় না)
  3. যাকাত আদায়ের কর্মচারী
  4. নওমুসলিম, যাদের ঈমান দৃঢ় করতে সাহায্য করা হয়
  5. দাস মুক্তির জন্য
  6. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে
  7. আল্লাহর পথে (জিহাদ, দ্বীনি শিক্ষা, মাদ্রাসা ইত্যাদির জন্য)
  8. অসহায় মুসাফিরদের জন্য

বিভিন্ন মাজহাবের মতামত

হানাফি মাজহাব:

ব্যবসার সমস্ত মাল ও নগদ অর্থ যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে এবং তার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে যাকাত দিতে হবে।

মালিকি মাজহাব:

যদি ব্যবসার মাল বিক্রি না হয় এবং তা অবিক্রিত থাকে, তবে তাতে যাকাত ফরজ নয়, বরং বিক্রি হওয়ার পর যাকাত দিতে হবে।

শাফেয়ি মাজহাব:

ব্যবসায়িক পণ্য যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তবে প্রতি বছর তার বাজারমূল্যের উপর যাকাত দিতে হবে, যদিও তা বিক্রি না হয়।

হাম্বলি মাজহাব:

যদি কোনো ব্যবসায়ী বাণিজ্যের জন্য সম্পদ ধরে রাখে এবং তা লাভের জন্য ব্যবহার করে, তবে তার উপর যাকাত ফরজ।


 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *