যাকাতের নিসাব ও যাদের ওপর যাকাত ফরজ
যাকাতের নিসাব
ইসলামে যাকাতের নিসাব নির্ধারিত আছে, যা স্বর্ণ, রূপা, নগদ অর্থ ও ব্যবসার সম্পদের উপর প্রযোজ্য হয়। স্বর্ণের নিসাব হলো ৭.৫ তোলা (৮৭.৪৮ গ্রাম) এবং রূপার নিসাব হলো ৫২.৫ তোলা (৬১২.৩৬ গ্রাম)। যদি কারও কাছে এত পরিমাণ সম্পদ এক হিজরি বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত থাকে এবং তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়, তবে তার উপর যাকাত ফরজ হয়।
কুরআনে এসেছে:
وَٱلَّذِينَ يَكۡنِزُونَ ٱلذَّهَبَ وَٱلۡفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ فَبَشِّرۡهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
“যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।”
(সূরা আত-তওবা: ৩৪)
যাদের ওপর যাকাত ফরজ
যাকাত আদায় করা তাদের জন্য ফরজ, যারা নিম্নোক্ত শর্ত পূরণ করে:
১. মুসলিম হওয়া – যাকাত শুধু মুসলিমদের জন্য বাধ্যতামূলক।
২. বালেগ হওয়া – প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ফরজ, তবে শিশুর সম্পদের উপর অভিভাবক যাকাত দিতে পারেন।
৩. আকিল (বুদ্ধিমান) হওয়া – পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ নয়।
4. সম্পদ নিসাব পরিমাণ হওয়া – যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর থাকে, তার জন্য যাকাত ফরজ।
5. ঋণমুক্ত হওয়া – ঋণের পর যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, তাহলে যাকাত ফরজ নয়।
হাদিসে এসেছে:
إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوَى الزَّكَاةِ
“নিশ্চয়ই সম্পদের হক রয়েছে, যাকাত ছাড়াও।”
(তিরমিজি: ৬৪৪)
এছাড়া যাকাতের খাত ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য রয়েছে কুরআন ও হাদিসে, যা সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


আরো কিছু তথ্য আমার দরকার