Islamic Life

হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর বিবাহ ও খাইবার যুদ্ধ

হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)

হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর বিবাহ ও খাইবার যুদ্ধ: একটি গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

হযরত সাফিয়া بنت حُيَيّ بن أخطب (رضي الله عنها) ছিলেন ইহুদি গোত্র বনী নাজিরের নেতা হযরত হুয়াই বেন আখতাবের কন্যা। তিনি ছিলেন ইহুদি গোত্রের একজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নারী। হিজরির ৭ম বছরে খাইবার যুদ্ধের সময় তিনি মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হন। যুদ্ধের পর, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মুক্তি দেন, ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করেন এবং পরবর্তীতে তাকে বিবাহ করেন।

কুরআনের নির্দেশনা ও ইসলামী আইন:

ইসলামে যুদ্ধবন্দীদের প্রতি মানবিক আচরণ ও তাদের মুক্তির জন্য নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সূরা মুহাম্মদ (৪৭:৪)-এ বলা হয়েছে:

আরবি:
فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءٌ ۚ حَتَّىٰ تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ۚ ذَٰلِكَ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ

বাংলা অনুবাদ:
“তাহলে (যখন যুদ্ধবন্দীদের ধরা হয়), পরে হয় অনুগ্রহ দ্বারা (মুক্তি), বা মুক্তিপণের বিনিময়ে — যতক্ষণ যুদ্ধের বোঝা না ওঠে।”

এই আয়াত প্রমাণ করে যে যুদ্ধবন্দীদের প্রতি দয়া ও মানবিক আচরণ ইসলামিক বিধান। হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর ঘটনা এই বিধানের বাস্তব উদাহরণ।

হাদিসের বর্ণনা:

হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিবাহের ঘটনা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হাদিস হলো:

আরবি:
فَأَعْتَقَهَا وَتَزَوَّجَهَا فَقالَ ثَابِتٌ لِأَنَسٍ مَا أَصْدَقَهَا؟ قَالَ: أَصْدَقَهَا نَفْسَهَا فَأَعْتَقَهَا وَتَزَوَّجَهَا

বাংলা অনুবাদ:
“তাহলে (যখন যুদ্ধবন্দীদের ধরা হয়), পরে হয় অনুগ্রহ দ্বারা (মুক্তি), বা মুক্তিপণের বিনিময়ে — যতক্ষণ যুদ্ধের বোঝা না ওঠে।”

এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-কে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে বিবাহ করেছিলেন।

বিবাহের প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ:

নাস্তিকরা প্রায়ই হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর নবীর সাথে বিবাহকে কটাক্ষ করে থাকে, কিন্তু ইসলামী ইতিহাস ও শরীয়াহ অনুযায়ী এই বিবাহ ছিল সম্মানজনক ও মানবিক। হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর পূর্ববর্তী স্বামী ছিলেন কুনানা বেন রাবি, যিনি খাইবার যুদ্ধের সময় নিহত হন। তিনি ছিলেন নবীর শত্রু গোত্রের একজন নেতা। হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর বন্দিত্বের পর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মুক্তি দেন এবং ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করেন। পরে, তিনি তাকে বিবাহ করেন, যা ইসলামের মানবিকতা ও নৈতিকতার প্রতিফলন।

নাস্তিকদের আপত্তির জবাব:

নাস্তিকরা প্রায়ই হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর নবীর সাথে বিবাহকে কটাক্ষ করে থাকে, কিন্তু ইসলামী ইতিহাস ও শরীয়াহ অনুযায়ী এই বিবাহ ছিল সম্মানজনক ও মানবিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের অন্যান্য দিকও মানবতার শিক্ষা দেয়। তিনি সবসময় মানবিকতা, ন্যায় ও সমতার পক্ষে ছিলেন।

উপসংহার:

হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিবাহ ইসলামের মানবিকতা ও নৈতিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ইসলামে বন্দীদের প্রতি মানবিক আচরণ ও তাদের মর্যাদা রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাস্তিকদের আপত্তি ইসলামী ইতিহাস ও শরীয়াহ অনুযায়ী ভিত্তিহীন।

রেফারেন্স:

1. সূরা মুহাম্মদ (৪৭:৪)

হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)
হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)

2. Sahih Muslim, Kitab an-Nikah, Hadith 1365

3. Sahih al-Bukhari, Kitab al-Maghazi, Hadith 4133

4. Ibn Hajar al-Asqalani, Fath al-Bari, Vol. 7, p. 126

5. Al-Tabari, Tarikh al-Tabari, Vol. 2, p. 123

 

 

One thought on “হযরত সাফিয়া (رضي الله عنها)-এর বিবাহ ও খাইবার যুদ্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *