রোমান সভ্যতায় নারীর মর্যাদা এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
১. রোমান সভ্যতায় নারীর মর্যাদা (প্রায় ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ – ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ):

রোমান সভ্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শুরু হয় এবং পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের মাধ্যমে ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে শেষ হয়। প্রাচীন রোমে নারীদের সামাজিক মর্যাদা ছিল মূলত পরিবারকেন্দ্রিক এবং পুরুষ-নির্ভর। নারীকে বলা হতো “পুত্রিয়াস পটেস্টাস”-এর অধীন, অর্থাৎ তিনি সবসময় পিতার বা স্বামীর অধীনে থাকতেন। একজন নারী নিজের নামে আইনি চুক্তি করতে পারতেন না এবং রাজনৈতিক অধিকার যেমন—ভোটাধিকার, অফিস গ্রহণের অধিকার, বিচারব্যবস্থায় অংশগ্রহণ—এসব ছিল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তবে ধীরে ধীরে, বিশেষ করে প্রজাতন্ত্র ও সাম্রাজ্য যুগে কিছু উচ্চবর্ণ ও ধনীদের মধ্যে শিক্ষিত নারী দেখা যেত, যারা সাহিত্য ও দাতব্য কার্যক্রমে অংশ নিতেন, কিন্তু সেটা ছিল ব্যতিক্রম।
২. রোমান সভ্যতায় নারীর উত্তরাধিকার অবস্থা:
রোমান আইনের প্রাথমিক যুগে নারীরা উত্তরাধিকার পাওয়ার অধিকার রাখতেন না, কারণ পরিবারে সম্পত্তির মালিকানা এবং নেতৃত্ব পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। কন্যাসন্তানদের সাধারণত বিয়ে দেওয়ার সময় যৌতুক হিসেবে কিছু দেওয়া হতো, কিন্তু তা কোনো উত্তরাধিকার হিসেবে ধরা হতো না। পরবর্তী কালে, বিশেষ করে “Twelve Tables” নামক রোমান আইনের কোড অনুযায়ী, কন্যাসন্তান যদি ভাই না থাকত, তাহলে কিছু উত্তরাধিকার পেতেন, তবে তাও ছিল সীমিত এবং নারীর নিজের স্বাধীনতা ছিল না—তাকে অবশ্যই কোনো পুরুষ অভিভাবকের অধীনে থাকতে হতো। সম্পত্তি পেলেও নারী নিজে তা ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারতেন না; অভিভাবক পুরুষই তার হয়ে তা পরিচালনা করত।
৩. ইসলামে নারীর মর্যাদা:
ইসলাম নারীর মর্যাদাকে আদর্শ ও স্বীকৃত মর্যাদায় উন্নীত করে। ইসলাম ঘোষণা করে যে নারী ও পুরুষ উভয়েই আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাদের মধ্যে কোনো জাতিগত বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নেই। কুরআনে বলা হয়েছে:
“তোমাদের মধ্যে যে পুরুষ বা নারী সৎকর্ম করে, আমি তাদের উত্তম জীবন দান করব এবং তাদের পুরস্কৃত করব তাদের উত্তম কর্ম অনুসারে।” (সূরা নحل, ১৬:৯৭)
ইসলাম নারীকে শিক্ষা, সম্পত্তি মালিকানা, বিবাহের অধিকার, তালাকের অধিকার, স্বতন্ত্র আইনি পরিচয়, সাক্ষ্যদান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। নারীরা সমাজে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন এবং পিতা-মাতা হিসেবে তাদের মর্যাদা অতুলনীয়।
৪. ইসলামে নারীর উত্তরাধিকার:
ইসলাম অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে নারীর উত্তরাধিকার নির্ধারণ করেছে। কুরআনে বলা হয়েছে:
“পুরুষদের জন্য যা কিছু পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন রেখে যায়, তাতে একটি নির্ধারিত অংশ রয়েছে; এবং নারীদের জন্যও একটি নির্ধারিত অংশ রয়েছে, তা হোক অল্প বা বেশি, এটা নির্ধারিত অংশ।” (সূরা নিসা, ৪:৭)
মায়ের অংশ, স্ত্রীর অংশ, কন্যার অংশ—সবই কুরআনে নির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। নারী নিজের সম্পত্তির পূর্ণ মালিক এবং তিনি তা যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবে ব্যবহার করতে পারেন। কোনো অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন নেই।
৫. তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
রোমান সভ্যতায় নারীরা ছিলেন আইনি ও সামাজিকভাবে পুরুষের অধীন; তারা উত্তরাধিকার থেকে প্রায় বঞ্চিত এবং নিজের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ইসলাম নারীর জন্য যথাযথ মর্যাদা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং উত্তরাধিকারে তার অধিকারকে ঈমানী বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


https://shorturl.fm/hwrGC
https://shorturl.fm/IBl8h
https://shorturl.fm/e3SQT
https://shorturl.fm/mO4MR
https://shorturl.fm/v1nhb
https://shorturl.fm/3VZ8g
https://shorturl.fm/xQgwh
https://shorturl.fm/pPj8Q
https://shorturl.fm/cFwBg
https://shorturl.fm/JjqBH
https://shorturl.fm/LRPGc