Islamic Life

যাকাতের খাত ও তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা

যাকাতের খাত

যাকাতের খাত ও তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা

যাকাত বেয়ের খাত কয়টি?
কুরআন ও হাদিসের আলোকে যাকাত ব্যয়ের খাত মূলত আটটি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনে স্পষ্টভাবে এই খাতগুলো নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যাকাত শুধুমাত্র এই আট শ্রেণির মধ্যে বিতরণ করা যায়, অন্যথায় তা শুদ্ধ হবে না।

কুরআনের আলোকে যাকাতের খাতসমূহ

📖 আল-কুরআন:
إِنَّمَا ٱلصَّدَقَٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَٱلْعَٰمِلِينَ عَلَيْهَا وَٱلْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي ٱلرِّقَابِ وَٱلْغَٰرِمِينَ وَفِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
“যাকাত তো কেবল দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত, যাকাত ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয়, দাস মুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য নির্ধারিত – এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”
(সূরা আত-তওবা: ৬০)

যাকাতের আটটি খাতের ব্যাখ্যা

১️⃣ ফুকারা (الفقراء) – গরীব:
যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নয় এবং মৌলিক চাহিদা মেটাতে অক্ষম, তাদেরকে যাকাত দেওয়া যায়।

২️⃣ মাসাকিন (المساكين) – অভাবগ্রস্ত:
যারা চরম দরিদ্র অবস্থায় আছে এবং তাদের মৌলিক চাহিদাও মেটাতে পারে না, তারা যাকাত পাওয়ার যোগ্য।

৩️⃣ আমিলীন আলাইহা (العاملين عليها) – যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণকারী:
যারা যাকাত সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিযুক্ত, তারা এর থেকে পারিশ্রমিক পেতে পারে।

৪️⃣ মুয়াল্লাফাতি কুলুবুহুম (المؤلفة قلوبهم) – নতুন মুসলমান ও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তিরা:
যারা নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছে বা যারা ইসলামের প্রতি আগ্রহী, তাদের ইসলামের প্রতি আরও ঘনিষ্ঠ করতে যাকাত প্রদান করা যায়।

৫️⃣ ফি রিকাব (في الرقاب) – দাস মুক্তির জন্য:
অতীতে দাসপ্রথার প্রচলন ছিল, তাই মুসলিম দাসদের মুক্ত করার জন্য যাকাত ব্যবহারের বিধান ছিল। আজকের দিনে এটি বন্দিদের মুক্তি বা আধুনিক দাসত্ব থেকে উদ্ধারের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

৬️⃣ গারিমীন (الغارمين) – ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিরা:
যারা ন্যায়সঙ্গত কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছে এবং তা পরিশোধ করতে অক্ষম, তারা যাকাতের হকদার। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, ঋণ নেওয়া হারাম কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়নি।

৭️⃣ ফি সাবিলিল্লাহ (في سبيل الله) – আল্লাহর পথে:
যারা আল্লাহর রাস্তায় কাজ করছে, যেমন ইসলাম প্রচার, ধর্মীয় শিক্ষা, জিহাদ, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন, তাদের জন্য যাকাত ব্যয় করা যায়।

৮️⃣ ইবনুস সাবিল (ابن السبيل) – মুসাফির:
যারা ভ্রমণের সময় সম্পদহীন হয়ে পড়েছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা প্রয়োজন, তারা যাকাতের আওতায় পড়ে।

হাদিসের আলোকে যাকাত ব্যয়ের খাত

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
📖 হাদিস:
لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ، وَلَا لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ
“যাকাত কোনো ধনী ব্যক্তির জন্য বৈধ নয়, এবং কোনো কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্যও নয় (যে উপার্জনে সক্ষম)।”
(সুনান আবু দাউদ: ১৬৩৪)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, যাকাত শুধুমাত্র প্রকৃত অভাবীদের জন্য নির্ধারিত।


 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *