ঈদুল আযহার সুন্নত আমলসমূহ
ঈদের দিনের আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও গোসল করা
ঈদের নামাজের পূর্বে গোসল করা সুন্নত। এটি সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত। কুরআনে বলা হয়েছে:
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।” (সূরা আল-বাকারা: ২২২)
ইবনে ওমর (রাঃ) ঈদের দিনে গোসল করতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৫৭৩৪)
ইমাম মালিক, শাফি ও আহমদ বলেন: ঈদের দিন গোসল করা সুন্নত। ইমাম নববী বলেন: এটি মুস্তাহাব আমল।
তাকবীর বলা
ঈদুল আযহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো তাকবীর পাঠ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ
“আর যেন তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করো, এজন্য যে তিনি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করেছেন।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)
অন্য আয়াতে বলেন:
وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ
“আর তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো।” (সূরা আল-বাকারা: ২০৩)
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন:
أن النبي ﷺ كان يُكبِّر يوم النحر ويوم الفطر، ويُسمع الناسُ صوته بالتكبير
“নবী (সা.) কুরবানির দিন ও ঈদুল ফিতরের দিন তাকবীর বলতেন এবং সাহাবাগণ তার কণ্ঠে তাকবীর শুনতেন।” (মুসান্নাফ আবদুর রায্জাক: ৫৬৫৪)
ইমাম আবু হানিফা বলেন, ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক নামাজের পর তাকবীর বলা ওয়াজিব।
ঈদের দিনে উত্তম পোশাক পরিধান করা ও মিসওয়াক ব্যবহার
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন:
أن النبي ﷺ كان يلبس أحسن ثيابه في العيدين
“নবী (সা.) ঈদের দিন উত্তম পোশাক পরিধান করতেন।” (আল-মুআত্তা: ৮৫৮)

মিসওয়াক প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
“যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না মনে করতাম তবে তাদের প্রত্যেক নামাযের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।” (সহীহ বুখারী: ৮৪৭)
ইমাম শাফি ও মালিক বলেন: ঈদের দিন সুগন্ধি, পরিষ্কার পোশাক ও মিসওয়াক করা সুন্নত।
ঈদগাহে যাওয়া এবং ফিরতি পথে ভিন্ন রাস্তা বেছে নেওয়া
জাবির (রাঃ) বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا كَانَ يَوْمُ عِيدٍ خَالَفَ الطَّرِيقَ
“নবী (সা.) ঈদের দিন ভিন্ন পথে প্রত্যাবর্তন করতেন।” (সহীহ বুখারী: ৯৮৬)
ইমাম নববী বলেন: এর মধ্যে একাধিক হিকমত রয়েছে। যেমন: দুঃস্থদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বেশি সংখ্যক মানুষকে ঈদের বার্তা পৌঁছানো, আল্লাহর যিকির করা ইত্যাদি।
ঈদের নামাজের আগে কিছু না খাওয়া
বুরাইদাহ (রাঃ) বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ، وَلَا يَأْكُلُ يَوْمَ الْأَضْحَى حَتَّى يُصَلِّي
“নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না, আর ঈদুল আযহার দিনে নামাজ পড়ার আগে কিছু খেতেন না।” (তিরমিযি: ৫৪২)
ইমাম মালিক বলেন: ঈদুল আযহার দিনে কুরবানির গোশত দ্বারা শুরু করা মুস্তাহাব, তাই আগে কিছু না খাওয়া উত্তম।
কুরবানির পশু নিজ হাতে যবেহ করা
আল্লাহ বলেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
“তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কুরবানী কর।” (সূরা আল-কাওসার: ২)
আনাস (রাঃ) বলেন:
ضَحَّى النَّبِيُّ ﷺ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ
“নবী (সা.) দুটি সাদা-কালো শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানি করেছেন, যেগুলো নিজ হাতে যবেহ করেছিলেন।” (সহীহ মুসলিম: ১৯৬৬)
ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদ বলেন: নিজ হাতে যবেহ করা সুন্নত ও অধিক ফজিলতপূর্ণ।
এগুলোই হলো ঈদুল আযহার প্রামাণ্য সুন্নত আমল, যেগুলো পালন করা সুন্নতের অনুসরণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। প্রতিটি আমল সহীহ দলিলভিত্তিক এবং সম্মানিত চার মাযহাবের ইমামদের মতে প্রমাণিত।

