হজ্জ কত প্রকার ও তার ব্যাখ্যা কুরআন ও হাদিসের আলোকে
হজ্জ মূলত তিন প্রকার—
- হজ্জ ইফরাদ (حَجُّ الإِفْرَادِ)
- হজ্জ কিরান (حَجُّ الْقِرَانِ)
- হজ্জ তামাত্তু (حَجُّ التَّمَتُّعِ)
১. হজ্জ ইফরাদ (حَجُّ الإِفْرَادِ)
হজ্জ ইফরাদ হলো এমন হজ্জ, যেখানে হাজী শুধুমাত্র হজ্জের নিয়ত করেন এবং উমরাহ সম্পাদন করেন না। এই ধরণের হজ্জ সাধারণত মক্কাবাসীরা করে থাকেন।
কুরআনের দলিল:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَأَتِمُّوا ٱلْحَجَّ وَٱلْعُمْرَةَ لِلَّهِ
“আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উমরাহ পূর্ণ করো।”
📖 (সূরা আল-বাকারা: ১৯৬)
২. হজ্জ কিরান (حَجُّ الْقِرَانِ)
হজ্জ কিরান হলো এমন হজ্জ, যেখানে হাজী একই সঙ্গে হজ্জ ও উমরাহ পালনের নিয়ত করেন এবং একই ইহরাম অবস্থায় উভয়টি সম্পন্ন করেন।
হাদিসের দলিল:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—
لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ، مَا سُقْتُ الْهَدْيَ، وَلَجَعَلْتُهَا عُمْرَةً
“যদি আমি পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারতাম, তাহলে আমি কুরবানির পশু আনতাম না এবং আমি কেবল উমরাহ করতাম।”
📖 (সহিহ মুসলিম: ১২১৮)
৩. হজ্জ তামাত্তু (حَجُّ التَّمَتُّعِ)
হজ্জ তামাত্তু হলো এমন হজ্জ, যেখানে হাজী প্রথমে উমরাহ করেন, এরপর ইহরাম খুলে ফেলে পরে হজ্জের জন্য নতুন ইহরাম বাঁধেন। সাধারণত বাইরের দেশ থেকে আগত হাজীরা এই হজ্জ সম্পন্ন করেন।
কুরআনের দলিল:
আল্লাহ তাআলা বলেন—
فَمَن تَمَتَّعَ بِٱلْعُمْرَةِ إِلَى ٱلْحَجِّ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِ
“যে ব্যক্তি উমরাহ সম্পাদনের পর হজ্জের সাথে মিলিত হয়, সে যেন সহজলভ্য কুরবানির ব্যবস্থা করে।”
📖 (সূরা আল-বাকারা: ১৯৬)
হজ্জের তিন প্রকারের তুলনামূলক ব্যাখ্যা
| হজ্জের ধরন | উমরাহ করা হয় | ইহরাম পালনের সময় | কুরবানি আবশ্যক |
|---|---|---|---|
| ইফরাদ | না | শুধুমাত্র হজ্জের জন্য | না |
| কিরান | হ্যাঁ, তবে একই ইহরামে | এক ইহরামে উভয় ইবাদত | হ্যাঁ |
| তামাত্তু | হ্যাঁ, আলাদা ইহরামে | উমরাহ শেষে ইহরাম খোলা হয়, পরে নতুন ইহরাম | হ্যাঁ |

