Islamic Life

    ঈদুল আযহার ওয়াজিব আমলসমূহ

    ঈদুল আযহা ঈদুল আযহা

    ঈদুল আযহার ওয়াজিব আমলসমূহ


    ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা

    ঈদুল আযহার দিন ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

    فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
    অতএব, তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়ো এবং কুরবানি করো।
    (সূরা আল-কাওসার: ২)

    এই আয়াতে ঈদের নামাজের নির্দেশ বিদ্যমান আছে বলে ইমামগণ ব্যাখ্যা করেছেন। হাদীসে এসেছে:

    أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَلَّى الْعِيدَ بِالنَّاسِ ثُمَّ وَعَظَهُمْ
    নবী ﷺ ঈদের নামাজ আদায় করতেন এবং লোকদের উপদেশ দিতেন।
    (সহীহ বুখারী: ৯৬২)

    ইমাম আবু হানিফা বলেন, ঈদের নামাজ ওয়াজিব। তাঁর দলিল হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্থায়ী আমল এবং তিনি কাউকে এ থেকে মুক্ত করেননি।
    ইমাম শাফি ও মালিক বলেন, এটি সুন্নতে মু’আক্কাদা


    কুরবানী করা

    কুরবানী করা ঈদুল আযহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল, যার প্রতি কুরআন ও হাদীসে জোরালো নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ বলেন:

    فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
    অতএব, তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়ো এবং কুরবানি করো।
    (সূরা আল-কাওসার: ২)

    আরেক আয়াতে এসেছে:

    وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ
    আর আমরা উট ও গরুকে তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শন বানিয়েছি।
    (সূরা হজ্জ: ৩৬)

    রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

    مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا
    যার সামর্থ্য আছে কিন্তু সে কুরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদের ময়দানের ধারে না আসে।
    (সুনান ইবনে মাজাহ: ৩১২৩, হাদীসটি হাসান লিগইরিহি)

    ইমাম আবু হানিফা বলেন, কুরবানী ওয়াজিব তাদের ওপর যাদের উপর যাকাত ফরজ, অর্থাৎ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক।
    ইমাম মালিক, শাফি ও আহমদ বলেন, এটি সুন্নতে মু’আক্কাদা, তবে কেউ ইচ্ছাকৃত না করলে গুনাহগার হবে।


    তাকবীরাত বলা – ঈদের দিন থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত

    ঈদের নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজের আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পরে উচ্চস্বরে তাকবীর বলা ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন:

    وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ
    আর নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহর যিকির করো।
    (সূরা আল-বাকারা: ২০৩)

    হাদীসে এসেছে, সাহাবিরা এই দিনগুলোতে তাকবীর বলতেন। যেমন:

    كَانَ ابْنُ عُمَرَ وَأَبُو هُرَيْرَةَ يَخْرُجَانِ إِلَى السُّوقِ فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ، يُكَبِّرَانِ وَيُكَبِّرُ النَّاسُ بِتَكْبِيرِهِمَا
    ইবনে উমর ও আবু হুরাইরা (রাযিঃ) যুলহিজ্জার দশ দিনে বাজারে যেতেন, তাকবীর বলতেন এবং লোকেরা তাঁদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলত।
    (সহীহ বুখারী: মুয়াল্লাক)

    ইমাম আবু হানিফা ও আহমদ বলেন, ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত ফরজ নামাজের পর তাকবীর বলা ওয়াজিব
    ইমাম শাফি ও মালিক বলেন, এটি সুন্নত


    ঈদের নামাজ জামাতে আদায় করা এবং খোলা ময়দানে যাওয়া

    ঈদের নামাজ জামাতে ও খোলা মাঠে আদায় করা ওয়াজিবের প্রায় সমপর্যায়ের সুন্নত। রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো ঈদগাহ মিস করেননি। হাদীসে এসেছে:

    كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَخْرُجُ إِلَى الْمُصَلَّى يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الْأَضْحَى
    নবী ﷺ ঈদের দিন ঈদগাহে যেতেন।

    ঈদুল আযহা
    ঈদুল আযহা

    (সহীহ বুখারী: ৯৫৬)

    ইমাম আবু হানিফা বলেন, নামাজ ওয়াজিব এবং জামাতে আদায় করা আবশ্যক
    ইমাম শাফি ও মালিক বলেন, জামাত সুন্নত মু’আক্কাদা


    ঈদের দিন খুতবা শোনা

    ঈদের নামাজের পরে খুতবা শোনা ওয়াজিব নয় কিন্তু সুন্নতে মু’আক্কাদা। তবে মনোযোগ সহকারে শোনা জরুরি। হাদীসে এসেছে:

    إِذَا صَلَّى الْإِمَامُ يَوْمَ الْعِيدِ فَإِنَّهُ يَخْطُبُ
    যখন ইমাম ঈদের নামাজ আদায় করেন, তখন তিনি খুতবা দেন।
    (সহীহ মুসলিম: ৮৮২)

    ইমাম আবু হানিফা বলেন, খুতবা শোনা ওয়াজিবের নিকটবর্তী
    ইমাম শাফি ও মালিক বলেন, এটি সুন্নত তবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।


    এই হলো ঈদুল আযহার ওয়াজিব আমলসমূহ কুরআন, হাদীস ও ইমামদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *