শিখ ধর্মের পরিচয় ও মৌলিক বিষয়সমূহ বিস্তারিত আলোচনা:
শিখ ধর্মের পরিচয়:
শিখ ধর্ম ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে ১৫শ শতকের শেষ দিকে গুরু নানকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম, যা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, মানবতার সেবা এবং ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। শিখ ধর্মের মূল ভিত্তি তাদের পবিত্র গ্রন্থ গুরু গ্রন্থ সাহিব।
শিখ ধর্মের মৌলিক বিষয়সমূহ:
১. একেশ্বরবাদ (Monotheism):
শিখ ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে একমাত্র পরম সত্য ঈশ্বর (ওয়াহেগুরু)। কুরআনেও একত্ববাদ সম্পর্কে বলা হয়েছে:
قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ
“বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়।” (সূরা ইখলাস: ১)
২. গুরুদের অনুসরণ:
শিখ ধর্মে মোট দশজন গুরু ছিলেন, যারা শিখদের জীবন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁদের শিক্ষাগুলোই পরবর্তীতে গুরু গ্রন্থ সাহিবে সংকলিত হয়েছে।
- সেবা (Sewa) এবং সমতার প্রচার:
শিখ ধর্মে সকল মানুষ সমান এবং তাদের মধ্যে জাতিগত ও সামাজিক বিভাজন নেই। - পাঁচ “ক” বা “পাঁচ কাকার” অনুসরণ:
শিখদের জীবনের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা “পাঁচ ক” নামে পরিচিত:- কেশ (Kesh): চুল না কাটা
- কঙ্গা (Kangha): চুল আঁচড়ানোর জন্য কাঠের চিরুনি
- কাড়া (Kara): লোহার ব্রেসলেট
- কচ্ছা (Kachera): বিশেষ অন্তর্বাস
- কৃপাণ (Kirpan): আত্মরক্ষার জন্য ছোট তরবারি
- শান্তি ও ন্যায়বিচার:
শিখ ধর্মে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইসলামী ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ, যেমন কুরআনে এসেছে:
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা আমানত তাদের নিকট পৌঁছে দাও যারা তার হকদার এবং যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার কর, তখন ন্যায়বিচার কর।” (সূরা আন-নিসা: ৫৮)
ইসলাম ও শিখ ধর্মের পার্থক্য ও মিল:
- উভয় ধর্মেই একেশ্বরবাদের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- শিখ ধর্ম গুরুদের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়, ইসলাম সরাসরি কুরআন ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহর মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়।
- ইসলামে নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত ফরজ, অথচ শিখ ধর্মে গুরুদ্বারায় প্রার্থনা এবং সেবার প্রতি গুরুত্ব বেশি।
উপসংহার:
শিখ ধর্ম শান্তি, সাম্য ও মানবতার কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্ম। যদিও ইসলাম ও শিখ ধর্মে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, তবে উভয় ধর্মই একত্ববাদ ও মানবসেবার ওপর গুরুত্ব দেয়।

