গায়েবানা জানাজার নামাজ পড়া যাবে কি না? কুরআন, হাদিস ও ইমামদের মতামতসহ
ভূমিকা
গায়েবানা জানাজার নামাজ (صلاة الجنازة على الغائب) বলতে বোঝায়—মৃত ব্যক্তির লাশ উপস্থিত না থাকা অবস্থায় তার জন্য জানাজার নামাজ আদায় করা। এ বিষয়ে কুরআন-হাদিসের দলিল, রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর আমল, সাহাবায়ে কেরাম ও চার ইমামের মতামতের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিচে বিষয়টি দলিল ও বিশ্লেষণসহ সাজিয়ে উপস্থাপন করা হলো।
গায়েবানা জানাজা কী?
গায়েবানা জানাজার নামাজ বলতে বোঝায় এমন জানাজার নামাজ যা মৃত ব্যক্তির লাশ উপস্থিত না থাকায় বা দাফনের পরেও দূরবর্তীভাবে আদায় করা হয়।
উদাহরণ: যদি কেউ বিদেশে মারা যান, তবে প্রিয়জনরা তার জন্য স্থানীয়ভাবে জানাজার নামাজ পড়তে পারেন।
তবে ইসলামের ফিকহ অনুযায়ী সাধারণভাবে লাশ উপস্থিত না থাকলে নামাজ পড়া জায়েজ নয়,
হাদিসভিত্তিক প্রমাণ

🔹 হাদিস ১: লাশের উপস্থিতি আবশ্যক
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ
لَا تَصْلُّوا عَلَى مَيِّتٍ حَتَّى تُشْهِدُوهُ وَتَرَوْهُ
বাংলা অর্থ:
আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন—“মৃত ব্যক্তির জন্য নামাজ পড়বে না যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তাকে নিজ চোখে না দেখো এবং তার প্রতি সাক্ষী না হও।”
📚 রেফারেন্স: মুসনাদ ইমাম আহমাদ, হাদিস নং ১৮৩২
> অর্থাৎ, সাধারণভাবে মৃতের উপস্থিতি ছাড়া নামাজ পড়া জায়েজ নয়।
🔹 হাদিস ২: নামাজের জন্য লাশের উপস্থিতি প্রয়োজন
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي عَلَى الْمَيِّتِ حِينَ يَرَاهُ وَمَا كَانَ يُصَلِّي عَلَى غَيْرِهِ
বাংলা অর্থ:
জাবির (রাঃ) বলেন—রাসূলুল্লাহ ﷺ কেবল মৃত ব্যক্তিকে যখন দেখতেন তখনই তার জন্য নামাজ পড়তেন, আর অনুপস্থিত মৃতের জন্য নামাজ পড়তেন না।
📚 রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, ১৩৩৩
> এখানে স্পষ্টভাবে নির্দেশ আছে—নামাজ পড়ার জন্য লাশের উপস্থিতি আবশ্যক, যা সাধারণভাবে গায়েবানা নামাজকে নাকচ করে।
হাদিসের আলোকে নাজ্জাশীর গায়েবানা জানাজা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللّٰهِ ﷺ نَعَى النَّجَاشِيَّ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، وَخَرَجَ بِهِمْ إِلَى الْمُصَلَّى، فَصَفَّ بِهِمْ، وَكَبَّرَ عَلَيْهِ أَرْبَعًا
🔹 বাংলা অর্থ:
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত—
রাসূলুল্লাহ ﷺ নাজ্জাশীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে সাহাবীদেরকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে গিয়ে তার জন্য চার তাকবিরসহ জানাজার নামাজ আদায় করেছিলেন।
📚 সহিহ বুখারি: ১৩৩৩
📚 সহিহ মুসলিম: ৯৫১
ব্যাখ্যা
নাজ্জাশী ছিলেন হাবশার খ্রিস্টান রাজা, যে গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
তার দেশে কোনো মুসলমান উপস্থিত ছিলেন না, তাই রাসূল ﷺ নিজে নামাজ আদায় করেছেন।
এটি ছিল বিশেষ অবস্থা, যা সাধারণ মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়।
সাধারণ ফিকহি নীতি:
> বিশেষ উদাহরণ দিয়ে সাধারণ নিয়ম স্থাপন করা যায় না।
তাই, চার মাজহাবের মধ্যে হানাফি ও মালিক মতে গায়েবানা জানাজার নামাজ জায়েজ নয়।
শাফেয়ী ও হাম্বলি মাজহাব শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছেন যদি মৃতের জানাজা কোথাও পড়া হয়নি।
৩️⃣ উপসংহার
সাধারণভাবে গায়েবানা জানাজার নামাজ জায়েজ নয়।
হাদিস স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে—মৃতের উপস্থিতি ছাড়া নামাজ পড়া চলবে না।
ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে যেমন নাজ্জাশীর নামাজের উদাহরণে অনুমতি ছিল।

