Islamic Life

খ্রিস্টান ধর্মের পরিচয় ও মৌলিক বিষয়সমূহ

খ্রিস্টান ধর্মের পরিচয়

খ্রিস্টান ধর্মের পরিচয় ও মৌলিক বিষয়সমূহ: কোরআন ও হাদিসের আলোকে

খ্রিস্টান ধর্ম কাকে বলে?

খ্রিস্টান ধর্ম হলো একেশ্বরবাদী ধর্ম যা হযরত ঈসা (আঃ)-এর ওপর অবতীর্ণ ইনজিলের অনুসারীদের ধর্ম। খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে ঈসা (আঃ) মানবজাতির মুক্তির জন্য প্রেরিত মসিহ ছিলেন। তবে ইসলাম মতে, তিনি একজন নবী ছিলেন এবং কোনোভাবেই আল্লাহর পুত্র নন। কুরআনে বলা হয়েছে:

وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا ٱلْمَسِيحَ عِيسَى ٱبْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ ٱللَّهِۚ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمْۚ

অর্থ: “আর তারা বলে, আমরা মসিহ ঈসা ইবনে মরিয়মকে হত্যা করেছি। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি; বরং তাদের জন্য (এটা) বিভ্রান্তিকর করে তোলা হয়েছিল।” (সূরা আন-নিসা: ১৫৭)

খ্রিস্টান ধর্মের মৌলিক বিষয়সমূহ:

১. তাওহীদ ও ত্রিত্ববাদ

খ্রিস্টান ধর্মে তিন সত্তার ধারণা (ত্রিত্ববাদ) বিদ্যমান, যেখানে ঈশ্বর (গড), পুত্র (ঈসা/যিশু) এবং পবিত্র আত্মা (Holy Spirit) একত্রে এক ঈশ্বর হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ইসলাম একমাত্র আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে। আল্লাহ বলেন:

لَّقَدْ كَفَرَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ ثَالِثُ ثَلَٰثَةٍۘ

অর্থ: “নিশ্চয়ই তারা কাফের হয়েছে, যারা বলে যে আল্লাহ তিনের মধ্যে তৃতীয়।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৭৩)

২. ঈসা (আঃ)-এর নবুয়ত

খ্রিস্টানরা ঈসা (আঃ)-কে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে গণ্য করলেও ইসলাম তাঁকে একজন নবী হিসেবে চিহ্নিত করে। কুরআনে বলা হয়েছে:

إِنَّمَا ٱلْمَسِيحُ عِيسَى ٱبْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ ٱللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَىٰهَآ إِلَىٰ مَرْيَمَ وَرُوحٌۭ مِّنْهُ

অর্থ: “মসিহ ঈসা ইবনে মরিয়ম আল্লাহর রাসূল ও তাঁর বাক্য, যা তিনি মরিয়মের প্রতি প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক আত্মা।” (সূরা আন-নিসা: ১৭১)

৩. খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ

খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো বাইবেল, যা পুরাতন ও নতুন নিয়মের দুটি অংশে বিভক্ত। ইসলাম অনুযায়ী, তাওরাত, যাবূর ও ইনজিল আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে সেগুলো বিকৃত হয়েছে। কুরআনে এসেছে:

فَوَيْلٌۭ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ ٱلْكِتَٰبَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَٰذَا مِنْ عِندِ ٱللَّهِ لِيَشْتَرُواْ بِهِۦ ثَمَنًۭا قَلِيلًۭا

অর্থ: “অতএব ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজেদের হাতে কিতাব লিখে, তারপর বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে।” (সূরা আল-বাকারা: ৭৯)

৪. ঈসা (আঃ)-এর উত্থান ও কিয়ামতের পূর্বে প্রত্যাবর্তন

ইসলামের মতে, ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহ জীবিত অবস্থায় উঠিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি কিয়ামতের পূর্বে আবার ফিরে আসবেন। হাদিসে এসেছে:

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَيُوشِكَنَّ أَنْ يَنْزِلَ فِيكُمُ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَدْلًا، فَيَكْسِرَ الصَّلِيبَ وَيَقْتُلَ الْخِنزِيرَ وَيَضَعَ الْجِزْيَةَ

অর্থ: “সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! খুব শিগগিরই ইবনে মরিয়ম তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচারক হিসেবে অবতরণ করবেন, ক্রুশ ভেঙে দেবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিজিয়া বাতিল করবেন।” (সহিহ বুখারি: ৩৪৪৮)

উপসংহার

খ্রিস্টান ধর্মের মূল ভিত্তি ঈসা (আঃ)-এর ওপর হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে তাঁকে শুধু নবী হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসলামে একেশ্বরবাদ গুরুত্ব পায়, যেখানে খ্রিস্টান ধর্ম ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে দেখা যায়, খ্রিস্টধর্মের কিছু অংশ বিকৃত হয়েছে এবং ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক পথ হলো একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *