Islamic Life

কেরাত এবং তেলাওয়াতের সংজ্ঞা ও পার্থক্য:

কেরাত এবং তেলাওয়াতের সংজ্ঞা ও পার্থক্য

কেরাত এবং তেলাওয়াতের সংজ্ঞা ও পার্থক্য:

কেরাত (القراءة) এবং তেলাওয়াত (التلاوة) উভয়ই কুরআন পাঠের সাথে সম্পর্কিত, তবে তাদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

কেরাতের সংজ্ঞা:

কেরাত শব্দটি আরবি “قرأ” ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো পাঠ করা, উচ্চারণ করা বা পড়া। ইলমে কেরাত বলতে বোঝায় কুরআনের বিভিন্ন বিশুদ্ধ পাঠধারার জ্ঞান। বিভিন্ন প্রসিদ্ধ ইমামগণ থেকে বর্ণিত কেরাতের বিভিন্ন রেওয়ায়েত রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কেরাতের অনুসারীদের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংরক্ষিত হয়েছে।

আরবদের বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিভাষায় কুরআন পাঠ করাকে কেরাত বলে। মোট সাতটি আঞ্চলিক পরিভাষা মুতাওয়াতের সনদে বর্ণিত আছে এই হিসেবে সাত কেরাত বলা হয়।
আর তিনটি পরিভাষা রয়েছে যেটি মুতাওয়াতের সনদে বর্ণিত না। সেটা মাশহুর সনদে বর্ণিত এটা সহ মোট দশ কেরাত।

 

আল কুরআনে কেরাত সম্পর্কে বলা হয়েছে: قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ (সূরা আন-নাহল: ১০২) অর্থ: “বলুন, এটি পবিত্র আত্মা (জিবরাইল আ.) আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করেছেন, যাতে ঈমানদারগণ সুদৃঢ় হন এবং এটি মুসলমানদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ।”

তেলাওয়াতের সংজ্ঞা:

তেলাওয়াত শব্দটি আরবি “تلو” ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা বা কিছু পড়ে শোনানো। ইসলামী পরিভাষায় তেলাওয়াত বলতে বোঝায় তাজবিদের নিয়ম অনুযায়ী কুরআন মাজীদ বিশুদ্ধভাবে পড়া এবং তার হক আদায় করা।

তেলাওয়াত বলা হয় যেমনি ভাবে কুরআন নাযিল হয়েছে ঠিক তদ্রূপভাবে পাঠ করাকে তেলাওয়াত বলে। অর্থাৎ জিব্রাইল আলাইহিস সালাম যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ওহী নিয়ে এসেছেন এবং যেমনিভাবে তিলাওয়াত করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনিয়েছেন সেই অনুযায়ী কোরআন পাঠ করাকে তেলাওয়াত বলে।

আল কুরআনে তেলাওয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে: الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُوْلَئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ (সূরা আল-বাকারা: ১২১) অর্থ: “যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছি, তারা তা যথাযথভাবে তেলাওয়াত করে, তারাই এতে বিশ্বাস করে।”

কেরাত ও তেলাওয়াতের মধ্যে পার্থক্য:

১. অর্থের দিক থেকে পার্থক্য: কেরাত হলো কুরআন পাঠের নির্দিষ্ট ধারা বা পদ্ধতি, যেখানে বিভিন্ন ইমামের অনুসরণে কুরআন পড়া হয়। তেলাওয়াত হলো কুরআন পাঠ করা, সাধারণ পাঠের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়।

  1. ব্যবহারের দিক থেকে পার্থক্য: তেলাওয়াত প্রতিদিনের কুরআন পাঠ ও সালাতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে কেরাত নির্দিষ্ট রেওয়ায়েত অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের শেখানো পদ্ধতি।

৩. তেলাওয়াতের গুরুত্ব: এটি কুরআনের একটি মৌলিক আমল, যা ব্যক্তির জন্য সওয়াবের কারণ হয় এবং তা অন্তরে প্রশান্তি আনে।

৪. কেরাতের গুরুত্ব: এটি কুরআনের বিভিন্ন পাঠভঙ্গির সঠিকতা নিশ্চিত করে এবং তা বিভিন্ন প্রসিদ্ধ ক্বারীদের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে।

ইমামদের মতামত:

ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, “কেরাতের বিভিন্নতা কুরআনের অলৌকিকতার অন্যতম নিদর্শন। এটি আল্লাহর বাণী সংরক্ষণের একটি প্রমাণ।”

ইমাম নববি (রহ.) বলেন, “তেলাওয়াত কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল, যার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর রহমত লাভ করে এবং তার আত্মা পরিশুদ্ধ হয়।”

এটি সংক্ষেপে কেরাত ও তেলাওয়াতের সংজ্ঞা ও তাদের পার্থক্য সম্পর্কে আলোচনা।


সাথে আপনাকে একটি ইসলামিক থাম্বনেলও দেওয়া হলো, যা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য উপযুক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *