যদি কেউ এভাবে নিয়ত করে যে, “আমার এই গরুটি অসুস্থ আছে, যদি সুস্থ হয়ে যায় তাহলে আমি এটিকে কুরবানী করবো”, এই ধরনের নিয়ত করলে এর হুকুম কী
এই ধরণের নিয়ত নযর (نذر) বা মানতের শামিল। অর্থাৎ, এটি এক ধরনের ওয়াদা বা অঙ্গীকার যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কাজের শর্তসাপেক্ষে এভাবে অঙ্গীকার করে যে, অমুক কাজ সম্পন্ন হলে আমি অমুক ইবাদত করব, তবে সেই কাজ সম্পন্ন হলে সেই ইবাদত তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়।
হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: “مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ، فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ، فَلَا يَعْصِهِ”
(সহীহ বুখারী: 6696)
অর্থাৎ: “যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের জন্য মানত করে, সে যেন তা পালন করে, আর যে ব্যক্তি গোনাহর জন্য মানত করে, সে যেন তা না করে।”
এই হাদীস থেকে বুঝা যায়, কেউ যদি কোনো ইবাদতের শর্তযুক্ত মানত করে এবং সেই শর্ত পূর্ণ হয়, তবে ঐ ইবাদত তার উপর আবশ্যক (ওয়াজিব) হয়ে যায়। অতএব, যদি কেউ বলে “এই গরুটি সুস্থ হলে কুরবানী দিব” এবং গরুটি সুস্থ হয়, তবে ঐ গরুটিকে কুরবানী দেয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে।
যদি গরুটি পরে আবার অসুস্থ হয়ে যায় এবং পরে সুস্থ হলেও কম দামে বিক্রি করে ফেলে, তাহলে করণীয় কী
যেহেতু গরুটি সুস্থ হয়েছে এবং তখন কুরবানী করা সম্ভব ছিল, তাই ঐ গরুটি কুরবানী দেয়া তার উপর ওয়াজিব ছিল। কিন্তু সে কুরবানী না দিয়ে বিক্রি করে ফেলেছে। এখন গরুটি আর তার কাছে নেই, তাই তাকে এর বিকল্প দিতে হবে।
চার মাযহাবের ফিকহবিদগণের মতে, যদি কেউ মানতের শিকারী পশু, কুরবানির পশু ইত্যাদি বিক্রি করে ফেলে, তাহলে তার বিক্রয়মূল্য দ্বারা কুরবানীর বিকল্প পশু কোরবানী করা আবশ্যক হবে। যদি সে কম দামে বিক্রি করে থাকে, তাহলেও তা তার ভুল এবং সে দায়মুক্ত হবে না।
المالكية قالوا: إن نذر أضحية معينة فإنها تتعين بالنية ولا يجوز بيعها، وإن باعها فعليه أضحية مثلها أو قيمتها وقت النذر.
অর্থ: মালিকী মাযহাব মতে, কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট পশুকে কুরবানির জন্য নির্ধারিত করে, তাহলে তা তার নিয়তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। এরপর তা বিক্রি করা বৈধ নয়। যদি বিক্রি করে, তাহলে তার উপর ঐ পশুর অনুরূপ আরেকটি পশু অথবা নির্ধারণকৃত সময়ের বাজারমূল্য অনুযায়ী পশু কুরবানী করতে হবে।
বর্তমানে যদি ওই দামে গরু না পাওয়া যায়, বরং বেশি দামে কিনতে হয়, তাহলে কী করণীয়
যেহেতু তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে গেছে এবং সে নিজেই গরুটি বিক্রি করেছে, তাই এখন নতুন করে গরু কিনে কুরবানী দিতে হবে—even যদি দাম বেশি হয় তাও। কারণ, কুরবানী এখন তার জন্য আল্লাহর কাছে একটি ওয়াজিব ইবাদত হয়ে গেছে, যা ত্যাগ করা বৈধ নয়।
إجماع العلماء على أن من وجبت عليه أضحية، لم يجز له تركها لفقره بعد ذلك.
অর্থ: উলামায়ে কেরামের ইজমা (ঐক্যমত) হলো, যদি কারো উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তীতে সে গরীব হয়ে গেলেও তার উপর থেকে ওয়াজিব সরে যাবে না।
উপসংহার
সারসংক্ষেপে বলা যায়, কেউ যদি নিয়ত করে যে গরু সুস্থ হলে কুরবানী দিব এবং গরুটি সত্যিই সুস্থ হয়ে যায়, তাহলে ঐ গরুটি কুরবানী দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। পরবর্তীতে যদি গরুটি বিক্রি করে দেয়, তাহলে বিক্রয় মূল্যের সমপরিমাণে বা তার পরিবর্তে সমমানের কুরবানীর পশু কিনে কুরবানী দিতে হবে। দাম বেশি হলেও তা করতেই হবে, কারণ এটি এখন তার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ওয়াজিব ইবাদত।

