মিয়ানমারে হাসপাতাল লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা — অন্তত ৩১ নিহত, আহত ৬৮ | ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
তারিখ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
স্থান: ম্রাউক-উ, রাখাইন স্টেট, মিয়ানমার
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী (জুন্তা) রাখাইন স্টেটের ম্রাউক-উ শহরের একটি বেসামরিক হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, অস্ত্রোপচার কক্ষ এবং ওয়ার্ডের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় উদ্ধার দল এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে।
চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী, নারী ও শিশু, হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স এবং কর্মীরাও এই হামলার শিকার হন। ধ্বংসস্তূপে এখনও অনেক মানুষ আটকে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
🔹 হামলার সময় যা ঘটেছিল
গতরাতে স্থানীয় সময় প্রায় ১১টার দিকে হঠাৎ যুদ্ধবিমান থেকে হাসপাতাল ভবনে একাধিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ধোঁয়া ও আগুনে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। আহতদের চিৎকারে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
হামলার পর স্থানীয় জনগণ, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং রেডক্রস কর্মীরা উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।
🔹 হাসপাতাল কেন টার্গেট হলো?
স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে, এলাকার সংঘাতের কারণে হাসপাতালটি আহত বেসামরিক নাগরিকদের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ছিল।
কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসপাতালে প্রতিপক্ষ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা থাকতে পারে — এমন সন্দেহেই জুন্তা এটি টার্গেট করে।
তবে বেসামরিক হাসপাতালে হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী একেবারেই নিষিদ্ধ এবং এটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
🔹 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন দপ্তর এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বলেছে:
“বেসামরিক হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু বানানো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অন্যতম গুরুতর উদাহরণ।”
🔹 পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে
ধ্বংসস্তূপ সাফ করতে অনেক সময় লাগবে। আহতদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা না থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় মানুষজন ব্যাপক আতঙ্কে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে।


