Islamic Life

মহিলারা মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়াতে পারবে কি?

মহিলারা মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়াতে পারবে কি?

মহিলারা মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়াতে পারবে কিনা: কোরআন, হাদীস, ফিকহ ও ইসলামী স্কলারদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ

মহিলারা মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়াতে পারবে কি?

ইসলামic শারীয়ত অনুযায়ী, নারীরা নারীদের জামাতের ইমামতি করতে পারেন—এ বিষয়ে অধিকাংশ ইসলামic স্কলার একমত। যদিও কুরআনে সরাসরি কোনো আয়াত নেই যা নারীদের ইমামতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, তবে হাদীসে এর কিছু ভিত্তি পাওয়া যায় এবং তা থেকেই অধিকাংশ মাজহাবের ফুকাহা ফতওয়া প্রদান করেছেন।

 

হাদীসের দলিল:

১.হাদীস : عن أم ورقة، أن النبي صلى الله عليه وسلم أمرها أن تؤم أهل دارها.
– رواه أبو داود (591)

অনুবাদ: উম্মে ওরাকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার ঘরের লোকদের ইমামতি করতে।

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, নারী যদি ঘরের পরিবেশে অথবা কেবল নারীদের মাঝে থাকেন, তাহলে তিনি ইমামতি করতে পারেন।

 

২.উম্মে ওয়ারাকা (রাঃ) এর হাদীস:

عن أم ورقة بنت عبد الله بن الحارث أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يزورها في بيتها، وجعل لها مؤذنا يؤذن لها، وأمرها أن تؤم أهل دارها.

অনুবাদ: উম্মে ওয়ারাকা বিনতে আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার ঘরে ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তার জন্য একজন মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করেছিলেন।cscsbd.com+1HadithBD+1

রেফারেন্স: সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৫৯২Log in or sign up to view

৩. আয়িশা (রাঃ) এর হাদীস:

عن رائطة الحنفية عن عائشة رضي الله عنها أنها كانت تؤم النساء في رمضان، وتقف معهن في الصف.

অনুবাদ: রায়েতা হানাফিয়া (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আয়িশা (রাঃ) রমযানে মহিলাদের ইমামতি করতেন এবং তিনি তাদের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড়াতেন।”

রেফারেন্স: মুসান্নাফ আব্দুর রায্জাক, হাদীস নং ৫০৮৮

এই হাদীসটি ইমাম আব্দুর রায্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এর উপর ভিত্তি করেই স্কলাররা নারীদের মধ্যে জামাতের বৈধতা প্রমাণ করেছেন।

 


ইমামদের মতামত:

১. হানাফি মাজহাব: হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নারীরা নারীদের ইমামতি করতে পারেন, তবে এটি মুস্তাহাব নয়, বরং মাকরূহ তানজিহি (অপ্রশংসনীয়) হিসেবে বিবেচিত। কারণ, তাদের ইমামতি করার মাধ্যমে জামাতের পূর্ণ সুফল পাওয়া যায় না।

২. মালিকি মাজহাব: মালিকি ফিকহ মতে, নারীদের ইমামতি করা মাকরূহ এবং এটি একেবারে নিরুৎসাহিত।

৩. শাফেয়ি মাজহাব: শাফেয়ি মাজহাব নারীদের জামাতের অনুমোদন দেয়। তাঁরা বলেন, একজন নারী কেবল নারীদের ইমামতি করতে পারবেন এবং তাদের কাতারে মাঝখানে দাঁড়াবেন, পুরুষদের মতো সামনে না।

৪. হাম্বলি মাজহাব: হাম্বলি মাজহাবের মতে, নারীদের মাঝে জামাত চালু করা জায়েয এবং ইমাম নারীটি মধ্য কাতারে দাঁড়াবে।


কিভাবে দাঁড়াবে মহিলা ইমাম?

হাদীস ও স্কলারদের বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, মহিলা যদি মহিলা জামাতে ইমামতি করেন, তবে তিনি কাতারের মাঝখানে দাঁড়াবেন, পুরুষ ইমামদের মতো সামনে এগিয়ে দাঁড়াবেন না।

এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে:

“وَتَقُومُ وَسْطَهُنَّ فِي الصَّفِّ”
(তিনি তাদের মধ্যখানে কাতারে দাঁড়াতেন)।
– (المصنف لعبد الرزاق: 5088)


উপসংহার:

নারী ইমাম কেবল নারীদেরই ইমামতি করতে পারেন এবং তা ইসলামী শরীয়তের সীমার মধ্যে অনুমোদিত। তবে এটি অবশ্যই নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে হবে:

  • কেবল নারীদের জামাত হলে,
  • ঘরোয়া পরিবেশে অথবা নিরাপদ স্থানে হলে,
  • এবং ইমাম নারীটি কাতারের মাঝখানে দাঁড়ালে।

এ ব্যাপারে অধিকাংশ স্কলার একমত হলেও কিছু মাজহাবের ভিন্নতা রয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলিম নারীর উচিত এই বিষয়ে নিজ নিজ মাজহাব অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে স্থানীয় আলেমের মতামত গ্রহণ করা।


প্রধান রেফারেন্সসমূহ:

  1. المصنف لعبد الرزاق، رقم: 5088
  2. سنن أبي داود، رقم: 591
  3. الفقه الإسلامي وأدلته – وهبة الزحيلي
  4. بداية المجتهد – ابن رشد
  5. المغني – ابن قدامة
  6. المجموع – النووي

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *